


শিলচর (অসম), ৪ মাৰ্চ (হি.স.) : কাছাড় জেলা-সদর শিলচরের পার্শ্ববর্তী শ্রীকোণায় ৩৮ নম্বর আসাম রাইফেলস-এর আধিকারিক ও জওয়ানদের সঙ্গে আজ বুধবার হোলি উৎসব উদযাপন করেছেন রাজ্যপাল লক্ষ্মণপ্রসাদ আচার্য।
জওয়ানদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে রাজ্যপাল তাঁদের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে দেশের প্রতি তাঁদের অনুকরণীয় সেবার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। রাজ্যপাল বলেন, আনন্দ ও ঐক্যের প্রতীক এই উৎসবের দিনে সেনাসদস্যদের মধ্যে উপস্থিত থাকা তাঁর জন্য ব্যক্তিগত গৌরব ও আবেগঘন মুহূর্ত। তাঁদের শৃঙ্খলা, সহনশীলতা ও নীরব দৃঢ়সংকল্প প্রত্যেক নাগরিকের কাছে প্রেরণার উৎস, বলেছেন রাজ্যপাল।
রাজ্যপাল বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে শান্তি বজায় রাখা এবং মানুষের আস্থা গড়ে তুলতে ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে আসাম রাইফেলস। সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি দুর্গম ও সংবেদনশীল এলাকায় স্থানীয় জনগণের সঙ্গে স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে বাহিনীটি বিশ্বাস ও স্থিতিশীলতা সুদৃঢ় করেছে।
উৎসবের গভীর তাৎপর্য তুলে ধরে রাজ্যপাল আচার্য বলেন, হোলি নবীকরণ, পুনর্মিলন ও ন্যায়ের জয়ের প্রতীক। কঠিন ভূখণ্ড ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ দায়িত্ব পালনের সময় জওয়ানদের দৈনন্দিন সাহসিকতা এই অধ্যবসায় ও নৈতিক শক্তির মূল্যবোধকেই প্রতিফলিত করে।
আসাম রাইফেলস-এর বিভিন্ন নাগরিকমুখী উদ্যোগ যেমন চিকিৎসা শিবির, শিক্ষাসহায়তা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে ত্রাণ কার্যক্রমের প্রশংসা করে রাজ্যপাল বলেন, এ সব উদ্যোগ বাহিনী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বন্ধন আরও সুদৃঢ় করেছে এবং অঞ্চলটির অগ্রগতিতে আসাম রাইফেলসকে এক বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
তিনি সেনাসদস্যদের পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তাঁদের জাতীয় নিরাপত্তার নীরব অবদানকারী হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁদের ত্যাগ ও উৎসাহই জওয়ানদের অটল নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে মানসিক ভিত্তি জোগায়, বলেন রাজ্যপাল।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের চলমান রূপান্তরের প্রসঙ্গে রাজ্যপাল বলেন, উন্নত পরিকাঠামো, সম্প্রসারিত সংযোগব্যবস্থা ও বর্ধিত অর্থনৈতিক সুযোগ নতুন বিকাশযুগের সূচনা করছে। এই অগ্রগতির মূলভিত্তি হলো স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা, আর তা নিশ্চিত করতে আসাম রাইফেলস অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে চলেছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে উৎসব উদ্যাপনের অনুপ্রেরণাদায়ক প্রথা জাতীয় সংহতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি দেশ জওয়ানদের প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করে। এ ধরনের উদ্যোগ নেতৃত্ব, নাগরিক ও দেশরক্ষায় নিয়োজিত বাহিনীর মধ্যে আবেগঘন সংযোগকে আরও মজবুত করে, যা ‘ন্যাশন ফাৰ্স্ট’ ভাবনাকে প্রতিফলিত করে।
হোলির রঙ ভারতের বহুত্বের মধ্যে ঐক্যের প্রতীক উল্লেখ করে রাজ্যপাল বলেন, সেনাসদস্যদের সঙ্গে উৎসব উদ্যাপন তাঁর দেশের শক্তি, চেতনা ও সংহতির প্রতি বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে।
আজকের অনুষ্ঠানে জওয়ান এবং অন্য আধিকারিকদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আসাম রাইফেলস (ইস্ট)-এর ইন্সপেক্টর জেনারেল মেজর জেনারেল ইন্দ্রজিৎ সিং ভিন্দর সহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস