শিক্ষার মাধ্যমে স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা গড়ে তোলার আহ্বান রাজ্যপালের
হাফলঙে রাজ্যপাল লক্ষ্মণপ্রসাদ আচাৰ্যের হাতে উদ্বোধিত বিবেকানন্দ বিদ্যালয় এবং সরস্বতী বিদ্যামন্দিরের নতুন ভবন হাফলং (অসম), ৫ মাৰ্চ (হি.স.) : শিক্ষা শুধু আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যম নয়, এর মাধ্যমে স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সামাজিক মূল্
হাফলঙে বিবেকানন্দ বিদ্যালয় ও সরস্বতী বিদ্যামন্দিরের নবনিৰ্মিত ভবনের উদ্বোধন করছেন রাজ্যপাল লক্ষ্মণপ্রসাদ আচাৰ্য


ফিতা কেটে নবনিৰ্মিত ভবনে প্রবেশের মুহূর্ত


নবনিৰ্মিত বিদ্যালয় ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের কয়েকটি মুহূর্ত


হাফলঙে রাজ্যপাল লক্ষ্মণপ্রসাদ আচাৰ্যের হাতে উদ্বোধিত বিবেকানন্দ বিদ্যালয় এবং সরস্বতী বিদ্যামন্দিরের নতুন ভবন

হাফলং (অসম), ৫ মাৰ্চ (হি.স.) : শিক্ষা শুধু আধুনিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যম নয়, এর মাধ্যমে স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সামাজিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা গড়ে তোলা জরুরি, হাফলঙে বিবেকানন্দ বিদ্যালয় ও সরস্বতী বিদ্যামন্দিরের নবনিৰ্মিত ভবনের উদ্বোধন করে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বলেছেন রাজ্যপাল লক্ষ্মণপ্রসাদ আচাৰ্য।

আজ বৃহস্পতিবার ডিমা হাসাও জেলার বড় হাফলঙে অবস্থিত বিবেকানন্দ বিদ্যালয় এবং সরস্বতী বিদ্যামন্দিরের নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধন করেছেন অসমের রাজ্যপাল লক্ষ্মণপ্রসাদ আচার্য। বিবেকানন্দ বিদ্যালয়ের ভবনটি নৰ্থ-ইস্টাৰ্ন কাউন্সিল (এনইসি)-র আর্থিক সহায়তায় নির্মিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে রাজ্যপাল বলেন, এই উদ্যোগ হাফলং এবং অসমের অন্যান্য পাহাড়ি জেলার শিক্ষাক্ষেত্রকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিনি বলেন, দুর্গম ও উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চলে আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা মানে তরুণ প্রজন্মের জন্য মানসম্মত শিক্ষা ও নতুন সুযোগ তৈরি করার সম্মিলিত প্রতিশ্রুতি। এর মাধ্যমে সরকার ও নাগরিক সমাজ যে উপজাতি জনগোষ্ঠীকে মূলধারায় আনতে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তাও স্পষ্ট।

রাজ্যপাল এই অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, হাফলঙে বিদ্যাভারতীর সঙ্গে যুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন মূল্যভিত্তিক শিক্ষাকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় সমাজকে জ্ঞান ও শিক্ষার মাধ্যমে ক্ষমতায়নের এক ধারাবাহিক প্রচেষ্টার প্রতিফলন।

এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত উত্তর-পূর্বাঞ্চল জনজাতি সেবা সমিতি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্টদের অভিনন্দন জানিয়ে রাজ্যপাল বলেন, গত প্রায় তিন দশক ধরে সংগঠনটি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উপজাতি সমাজের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জীবিকা, এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রকে গুরুত্ব দিয়ে সংগঠনটি দুর্গম অঞ্চলে উন্নয়ন পৌঁছে দিচ্ছে।

উত্তরপূর্ব ভারতের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অঞ্চল তার সমৃদ্ধ উপজাতীয় ঐতিহ্য, দৃঢ় সামাজিক বন্ধন এবং প্রকৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধার জন্য পরিচিত।

বিদ্যালয়ের নামকরণ যাঁর নামে, সেই স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শের উল্লেখ করে রাজ্যপাল বলেন, মহান দার্শনিক ও আধ্যাত্মিক নেতা শিক্ষাকে মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তি ও সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তোলার মাধ্যম হিসেবে দেখতেন। তিনি বলেন, শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো চরিত্র গঠন, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা।

রাজ্যপাল লক্ষ্মণপ্রসাদ আরও বলেন, ভারতের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা দেশের সমৃদ্ধ সভ্যতাগত ঐতিহ্যকে আধুনিক চাহিদা ও বৈশ্বিক আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সমন্বয় করার চেষ্টা করছে। এ প্রসঙ্গে তিনি জাতীয় শিক্ষানীতির রূপান্তরমূলক দৃষ্টিভঙ্গির কথা উল্লেখ করেন, যা মাতৃভাষায় শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, বহু-বিষয় ভিত্তিক শিক্ষা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রস্তুত করার লক্ষ্য নিয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশে রাজ্যপাল শৃঙ্খলা, অধ্যবসায় এবং দৃঢ় নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও নতুন উদ্ভাবনকে গ্রহণ করার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও নৈতিক ভিত্তির সঙ্গে যুক্ত থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, আজকের যুবসমাজই দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং তাঁদের নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে উৎকর্ষ অর্জনের চেষ্টা করতে হবে।

শিশুদের সার্বিক বিকাশে শিক্ষক ও অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথাও তিনি উল্লেখ করেন। রাজ্যপাল বলেন, যখন বিদ্যালয়, পরিবার এবং সমাজ একসঙ্গে কাজ করে একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করে, তখনই প্রকৃত শিক্ষা সম্ভব হয়, যা বৌদ্ধিক বিকাশের পাশাপাশি নৈতিক ও মানসিক উন্নয়নকেও সমান গুরুত্ব দেয়।

নবনির্মিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সম্ভাবনার ওপর আস্থা প্রকাশ করে রাজ্যপাল বলেন, এই বিদ্যালয়গুলো শিক্ষা ও চরিত্র গঠনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে এবং ছাত্রছাত্রীদের সমাজ ও দেশের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত করবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অসমের ফার্স্ট লেডি কুমুদ দেবী, রাজ্যের ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রী নন্দিতা গার্লোসা, উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের প্রধান কার্যনির্বাহী সদস্য দেবোলাল গার্লোসা, নর্থ ইস্টার্ন কাউন্সিলের সদস্য লংকি ফাংচো, এনপিপিসি লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার ড. ইয়েংখোম লামজিংবা সিংহ, বিদ্যাভারতী পূর্বোত্তর ক্ষেত্রের সাংগঠনিক সম্পাদক ড. পবন তিওয়ারি, বিশ্বহিন্দু পরিষদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাংগঠনিক সম্পাদক ড. দীনেশকুমার তিওয়ারি সহ উত্তর কাছাড় পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদের একাধিক নির্বাহী সদস্য ও সদস্যগণ প্রমুখ বহু বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ।

হিন্দুস্থান সমাচার / বিশাখা দেব




 

 rajesh pande