

পদ্মখচিত গৈরিক টুপি ও উত্তরীয় পরিধান কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ, বসন্ত দাস এবং শশীকান্ত দাসের
গুয়াহাটি, ৫ মাৰ্চ (হি.স.) : ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের তিন বহিষ্কৃত বিধায়ক যথাক্রমে কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ, বসন্ত দাস এবং শশীকান্ত দাস আজ ভারতীয় জনতা দলে যোগদান করেছেন। দলের প্রদেশ সভাপতি দিলীপ শইকিয়া, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পবিত্র মার্ঘেরিটা, রাজ্যের মন্ত্রী পীযূষ হাজরিকা, মন্ত্রী জয়ন্তমল্ল বরুয়া, সাংসদ প্রদান বরুয়ার উপস্থিতিতে বিজেপির প্রদেশ সদর দফতর অটলবিহারী বাজপেয়ী ভবনে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে দলের সদস্যপদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
দলে যোগ দেওয়ার পর কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ বলেন, অসম এবং দেশের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, বিজেপির নীতির সঙ্গে কাজ করতে এবং অসম ও ভারতকে এগিয়ে নিতে অবদান রাখার উদ্দেশ্যে তাঁরা তিনজন বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে বলেন, তোষণের রাজনীতি দলের শক্তিকে দুর্বল করে দিয়েছে। ভবিষ্যতে দলটি যদি তার মতাদর্শ পরিবর্তন না করে, তবে তা ভেতরে ভেতরে ফাঁপা হয়ে পড়তে পারে।
এদিকে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে কমলাক্ষ দে পুরকায়স্থ লিখেছেন, ‘আজকের দিনটি আমার জীবনের এক বিশেষ ও স্মরণীয় দিন। আজ আমি বিশ্বের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-তে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করে এই বৃহৎ পরিবারের একজন সদস্য হতে পেরে নিজেকে গর্বিত ও ধন্য মনে করছি।
‘এই শুভ দিনে আমার যাত্রার শুরুতেই আমি গণেশগুড়ির গণেশ মন্দিরে ভগবান গণেশের চরণে প্রণাম জানাই এবং গণেশগুড়ির হনুমান মন্দিরে প্রার্থনা করে আশীর্বাদ যাচ্ঞা করেছি।
‘আপনাদের সকলের আশীর্বাদ ও শুভকামনা নিয়ে, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদাজি ও মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা মহাশয়ের দূরদর্শী নেতৃত্বকে আরও শক্তিশালী করা এবং তাঁর নেতৃত্বে অসমের উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে, বিজেপির আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আজ আমি বিজেপির প্রদেশ সদর দফতরে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলে যোগদান করেছি। এই নতুন যাত্রায় আপনাদের সবার আশীর্বাদ ও সহযোগিতা কামনা করছি।’
বসন্ত দাস বলেন, অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে চলমান উন্নয়নমূলক কাজ তাঁকে এই সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করেছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সময় তাঁর বিধানসভা এলাকায় উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে এবং ড. শর্মার নেতৃত্বে অসম ও দেশের অগ্রগতির জন্য কাজ করতেই তিনি বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।
শশীকান্ত দাস বলেন, অসমের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য হিমন্তবিশ্ব শর্মার প্রচেষ্টায় তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছেন। তাই তাঁকে বিজেপিতে যোগ দিতে উৎসাহিত করেছে। তিনি আরও বলেন, মহাত্মা গান্ধীর সময় ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য যে কংগ্রেস গড়ে উঠেছিল, বর্তমান কংগ্রেস আর সেই সংগঠন নেই। গৌরব গগৈয়ের পাকিস্তান সংযোগের অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি দাবি করেন, আসন্ন নির্বাচনে কংগ্রেস হয়তো বিরোধী দল হিসেবেও টিঁকে থাকতে সমস্যায় পড়তে পারে এবং বিজেপি আবারও অসমে ক্ষমতায় ফিরবে।
ঘটনাটি এমন সময় ঘটেছে, যখন রাজ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ছে। সর্বভারতীয় কংগ্রেস কমিটি ইতিমধ্যে বিধানসভা নির্বাচনের জন্য প্রথম দফায় ৪২ জন প্রার্থীর তালিকা ঘোষণা করেছে।
এদিকে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা কংগ্রেসের প্রকাশিত তালিকার সমালোচনা করে বলেছেন, সেখানে মূলত ‘বংশানুক্রমিক প্রার্থী’ রয়েছেন। তবে কংগ্রেস নেতৃত্বের দাবি, তালিকায় তৃণমূল স্তরের নেতা এবং অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদেরই জায়গা দেওয়া হয়েছে।
তিনজন বর্তমান বিধায়কের দলবদলকে ঘিরে আসন্ন অসম বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস