মিজোরামের সাইরাঙে এই প্রথম পৌঁছলো এফসিআই ফুড গ্রেন কার্গো
ভারত গৌরব ট্রেনের ফলে পর্যটক বৃদ্ধি মিজোরামে গুয়াহাটি, ৫ মাৰ্চ (হি.স.) : যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন পরিষেবা চালু হওয়ায় মিজোরাম রাজ্যজুড়ে যাত্রী পরিবহণ এবং পণ্য পরিবহণ, উভয় ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। এই উন্নয়ন কেবল যোগাযোগ ব্যবস্থায়ই নয়
সাইরাং রেলওয়ে স্টেশনে এফসিআই-এর ফুড গ্রেন কার্গো ট্রেন


সাইরাং রেলওয়ে স্টেশনে যানবাহী কার্গো


সাংরাং স্টেশনে মিজোরামের মন্ত্রী, সংসদ এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ


ভারত গৌরব ট্রেনের ফলে পর্যটক বৃদ্ধি মিজোরামে

গুয়াহাটি, ৫ মাৰ্চ (হি.স.) : যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন পরিষেবা চালু হওয়ায় মিজোরাম রাজ্যজুড়ে যাত্রী পরিবহণ এবং পণ্য পরিবহণ, উভয় ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। এই উন্নয়ন কেবল যোগাযোগ ব্যবস্থায়ই নয় অর্থনৈতিক বিকাশের ক্ষেত্রেও অবদান রেখেছে এবং এই অঞ্চলে পর্যটনকে আরও শক্তিশালী করেছে।

আজ বৃহস্পতিবার উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা এ সম্পর্কে তথ্য দিতে গিয়ে জানান, একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক মাইলফলক তৈরি করে গত ৩ মার্চ ফুড কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া (এফসিআই)-র প্রথম ফুড গ্রেন কার্গো ট্রেন সাইরাং রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে। ওই কার্গো ট্রেনে ৪২টি ওয়াগন ছিল, যেখানে পাঞ্জাব থেকে প্রায় ২৫,৯০০ কুইন্টাল চাল সরবরাহ করা হয়। এটি রাজ্যে রেল-বেসড ফ্রেইট কানেক্টিভিটিকে মজবুত করার এবং প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ শৃঙ্খল উন্নত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এফসিআই-এর রেকটিকে সাংরাং স্টেশনে মিজোরামের খাদ্য, অসামরিক সরবরাহ ও উপভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রী বি লালসানজোভা, রাজ্যসভার সদস্য কে ভানলেলভেনা এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ রিসিভ করেন। সাইরাং-এ খাদ্যশস্য বোঝাই রেকের সফল আনলোডিং স্টেশনের ক্রমবর্ধমান কর্মক্ষমতাকে প্রদর্শন করে এবং মিজোরামের লজিস্টিক ও খাদ্য বিতরণ নেটওয়ার্ককে সমর্থন করার ক্ষেত্রে রেলওয়ে পরিকাঠামোর ক্রমবর্ধমান ভূমিকা তুলে ধরে।

তিনি বলেন, গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর ৫১.৩৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ভৈরবী-সাইরাং রেলওয়ে লাইনের উদ্বোধন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এটি মিজোরামের জনগণের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক ছিল। এই বৃহৎ পরিকাঠামো প্রকল্পটি আইজলকে ভারতের রেলওয়ে ম্যাপে সন্নিবিষ্ট করেছে। কারণ এর মাধ্যমে রাজ্যটি সরাসরি ভারতের রেলওয়ে নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত হয়েছে। পরিবহণ ব্যবস্থা উন্নত করার পাশাপাশি, নতুন রেললাইনের ফলে অর্থনৈতিক বিকাশ এবং পর্যটন উন্নয়নকে উৎসাহিত করা জন্য উল্লেখযোগ্য সুযোগ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মিজোরামে পর্যটনের গতি বৃদ্ধি সম্পর্কে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা বলেন, মিজোরামে নতুন চালুকৃত রেল লাইন পর্যটনকে উৎসাহিত করেছে, গত ছয় মাসে রাজ্যে আগত পর্যটকের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। মিজোরামে রেল পরিষেবা এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে, যখন গত ১২ ফেব্রুয়ারি (২০২৬) ‘নর্থ ইস্ট ডিসকভারি’ সার্কিটের অধীনে প্রথমবারের মতো ভারত গৌরব ডিলাক্স এসি ট্যুরিস্ট ট্রেন সাইরাং রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে। এই প্রিমিয়াম ট্যুরিস্ট ট্রেন ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং নেপালের মতো অন্যান্য দেশ থেকে ৮১ জন পর্যটক নিয়ে এসেছিল। এতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে মিজোরামের ক্রমবর্ধমান স্বীকৃতির প্রতিফলন ঘটায়।

উন্নত অ্যাক্সেসযোগ্যতা দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক উভয় দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করেছে, যার ফলে আতিথেয়তা এবং সংশ্লিষ্ট সেক্টরগুলিতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, ইকো-ট্যুরিজম এবং কালচারেলট্যুরিজমকে উৎসাহিত করছে এবং মিজোরামকে ইনক্লুসিভ গ্রোথএবং আঞ্চলিক একীকরণের বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গির অধীনে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি উদীয়মান গন্তব্য হিসাবে স্থান দিচ্ছে, বলেন কপিঞ্জল কিশোর শর্মা।

কপিঞ্জল কিশোর শর্মা যাত্রীদের সংখ্যা বৃদ্ধি সম্পর্কেও তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ভৈরবী-সাইরাং রুটে ট্রেন পরিষেবা শুরু হওয়ার পর থেকে জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া অভূতপূর্ব রয়েছে। সাইরাং-আনন্দ বিহার রাজধানী এক্সপ্রেসের উভয় দিকেই যাত্রী সংখ্যা ১৫০ শতাংশ থেকে বেশি অকুপ্যান্সি রয়েছে। সাইরাং-গুয়াহাটি এক্সপ্রেস এবং সাইরাং-কলকাতা এক্সপ্রেস একইভাবে ১০০ শতাংশের বেশি যাত্রী অকুপ্যান্সি অর্জন করেছে, যা স্পষ্টতই সাইরং থেকে রেল পরিষেবার চাহিদা এবং জনসাধারণের গ্রহণযোগ্যতার প্রতিফলন ঘটায়। গত ৯ ফেব্রুয়ারি রেলমন্ত্রী সাইরাং থেকে শিলচর পর্যন্ত একটি নতুন ট্রেন পরিষেবার সূচনা করেছেন, যার ফলে আঞ্চলিক গতিশীলতাকে আরও মজবুত হয়েছে এবং মিজোরাম অসমের বরাক উপত্যকার গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা, চিকিৎসা এবং বাণিজ্যিক কেন্দ্রের সাথে সংযুক্ত হয়েছে।

তিনি জানান, ভৈরবী-সাইরাং সেকশন চালু হওয়ার পর থেকে পণ্য পরিবহণ উল্লেখযোগ্যভাবে গতি পেয়েছ। উদ্বোধনের পরই ২১টি সিমেন্ট ওয়াগনের প্রথম মালবাহী রেক সফলভাবে সাইরাং পৌঁছে। ফলে রাজ্যে নিয়মিত মালবাহী পরিবহণের সূচনা হয়। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ (২০২৬) পর্যন্ত সাইরাং টার্মিনাল ৩০টির বেশি মালবাহী রেক হ্যান্ডেল করেছে, যা মিজোরামে রেল-বেসড কার্গো পরিবহণের ধীরে ধীরে বিকাশ ঘটছে। এই সময়ের মধ্যে, টার্মিনালে ৩.৫ রেক সিমেন্ট আনলোড করা হয়েছে। সিমেন্ট ছাড়াও, রেলের মাধ্যমে সহবরাহকৃত অন্যান্য পণ্যের মধ্যে দুটি অটোমোবাইল রেক, পাঁচ রেক সার, ২০.৫ রেক স্টোন চিপস এবং চার রেক বালি রয়েছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, ১১৯টি যাত্রীবাহী যানবাহন বহনকারী প্রথম অটোমোবাইল রেক ডিসেম্বর (২০২৫)-এ সাইরাং পৌঁছেছে। যার ফলে দেখা যাচ্ছে, এই রেল লাইনের উচ্চ-মূল্যের বাল্ক কনসাইনমেন্ট পরিচালনা করার ক্ষমতা রয়েছে। উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে পার্সেল লজিস্টিক শক্তিশালী করার জন্যও পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যার মধ্যে উদ্যানপালন এবং পচনশীল পণ্য পরিবহণের সুবিধার্থে রেফ্রিজারেটেড পার্সেল ভ্যান পরিষেবা চালু করা রয়েছে, যার ফলে স্থানীয় কৃষক এবং ব্যবসায়ীদের জন্য বাজার অ্যাক্সেস সম্প্রসারিত হবে, বলেছেন উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande