
কলকাতা, ৭ মার্চ (হি.স.): সদ্য প্রকাশিত হয়েছে ইউপিএসসি-র ফলাফল। গোটা দেশে প্রথম হলেন এক চিকিৎসক। পশ্চিমবঙ্গের ফলাফলেও প্রথমদিকে আছেন এক চিকিৎসক। এর পর নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ইউপিএসসি-তে চিকিৎসক-ইঞ্জিনিয়ার কতটা কাঙ্খিত?
বেশ কিছুকাল একত্রে পশ্চিমবঙ্গ-সহ তিন রাজ্যের চিফ পোস্ট মাস্টার জেনারেল ছিলেন অরুন্ধতী ঘোষ। তার পর ডাকমন্ত্রকের আরও গুরুদায়িত্ব নিয়ে চলে যান নয়াদিল্লিতে।
নিজেদের পেশা ছেড়ে ইউপিএসসি-র বৈতরণী পেরিয়ে চিকিৎসক-ইঞ্জিনিয়ারদের সর্বভারতীয় স্তরে আমলা হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উছে নানা স্তরে। এ সম্পর্কে নিজের ভাবনার কথা জানালেন অরুন্ধতী ঘোষ। প্রসঙ্গত, তাঁর স্বামী ডঃ আশুতোষ ঘোষ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং দেশবিখ্যাত এক বিজ্ঞানী।
অরুন্ধতী দেবীর মতে, “এটা সত্যি যে পেশাদাররা, বিশেষ করে ডাক্তার এবং ইঞ্জিনিয়াররা অনেকে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। অবশ্যই এটা নতুন কোনও প্রবণতা নয়। আমি ১৯৮৬ সালের ব্যাচে ছিলাম। আমাদের বেশ কয়েকজন ডাক্তার এবং ইঞ্জিনিয়ার চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন।
আমি একমত যে এটি পেশাদার প্রশিক্ষণের নিছক অপচয় এবং আমাদের মতো দেশে এটি জনসাধারণের অর্থের অপচয়ও। কিন্তু আপনি যদি এটিকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেন, তাহলে এটি তার চেয়েও বেশি কিছু। এটি আমাদের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার দিকে এবং শিক্ষার সাথে কর্মসংস্থানের সংযোগ স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার দিকে ইঙ্গিত করে। পরিশেষে, ভারতে বেকারত্বের পরিস্থিতি এই প্রবণতার অন্যতম প্রধান কারণ।
পর্যায়ক্রমিক শ্রমশক্তি জরিপ অর্থাৎ ‘পিরিয়ডিক লেবার ফোর্স সার্ভে ’(PLFS) ২০২৩-২৪ সালে বেকারত্বের হার ৩.২% এবং স্নাতক এবং তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে এটি ১৩% পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে। যদি আমরা স্নাতকদের (১৬-২৯ বছর বয়সী) শ্রেণী বিবেচনা করি, তাহলে ২০২৪-২৫ সালে বেকারত্বের হার প্রায় ২৯%-এরও বেশি হয়ে যায়। উন্নত দেশগুলিতে উচ্চশিক্ষা রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত হয় না। তাই যাঁরা উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী এবং যাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সামর্থ্য আছে, তাঁরাই কেবল তা করে।
পাগলের মতো UPSC-র মাধ্যমে IAS, IPS চাকরি পাওয়ার চেষ্টা বন্ধ করতে ২০২৬ সালে
কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যেমন চাকরিরত অফিসারদের চেষ্টার অর্থাৎ আবেদনের সংখ্যা সীমিত করা এবং আসন আটকে রাখার অন্য কিছু বিধিনিষেধ। কিন্তু পেশাদারদের সিভিল সার্ভিসে যোগদান থেকে সম্পূর্ণরূপে বিরত রাখার অসুবিধা আছে। সেটা অপ্রয়োজনীয় মামলা-মোকদ্দমার কারণ হতে পারে। তাই এটা কার্যকর করা মুস্কিল হতে পারে।”
হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত