নব্বইয়ের দশকের অশান্ত সময়ের স্মৃতি মনে করালেন মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা
তেলিয়ামুড়া (ত্রিপুরা), ৭ মার্চ (হি.স.) : ত্রিপুরার পাহাড়ি জনপদে নব্বইয়ের দশকের অশান্ত সময়ের স্মৃতি এখনও অনেক মানুষের মনে দগদগে ক্ষতের মতো রয়ে গেছে। রাত নামলেই গ্রামজুড়ে নেমে আসত আতঙ্ক—বন্দুকের শব্দ, অপহরণের খবর কিংবা অজানা আশঙ্কায় নিভে যেত ঘরের আলো
জনজাতিদের সাথে মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা


তেলিয়ামুড়া (ত্রিপুরা), ৭ মার্চ (হি.স.) : ত্রিপুরার পাহাড়ি জনপদে নব্বইয়ের দশকের অশান্ত সময়ের স্মৃতি এখনও অনেক মানুষের মনে দগদগে ক্ষতের মতো রয়ে গেছে। রাত নামলেই গ্রামজুড়ে নেমে আসত আতঙ্ক—বন্দুকের শব্দ, অপহরণের খবর কিংবা অজানা আশঙ্কায় নিভে যেত ঘরের আলো। শুক্রবার খোয়াই জেলার তেলিয়ামুড়া মহকুমার কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ৪৩ মাইল এলাকায় ‘জনতার কথা শোনা’ কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের সঙ্গে চায়ের আড্ডায় বসে সেই সময়ের কথাই স্মরণ করলেন রাজ্যের জনজাতি কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা।

আঠারোমুড়া পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত ছোট্ট ওই এলাকায় বিকেলের দিকে স্থানীয় গ্রামবাসীদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতায় অংশ নেন মন্ত্রী। চায়ের কাপের ধোঁয়ার ফাঁকেই আলোচনার মোড় ঘুরে যায় নব্বইয়ের দশকের সেই অস্থির সময়ের দিকে।

মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা বলেন, “একটা সময় পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষ প্রতিদিন আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতেন। স্কুলের শিক্ষকরা পর্যন্ত নিরাপদে যাতায়াত করতে পারতেন না। অনেক পরিবার রাতের পর রাত জেগে কাটিয়েছে—কখন জঙ্গিরা এসে দরজায় কড়া নাড়বে সেই ভয়ে।”

তিনি আরও বলেন, সেই সময় পাহাড়ি এলাকায় সশস্ত্র তৎপরতা, অপহরণ এবং চাঁদাবাজির কারণে সাধারণ মানুষের জীবন কার্যত দুর্বিষহ হয়ে উঠেছিল। “অনেক পরিবারের উপার্জনক্ষম মানুষকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আজও অনেক পরিবার জানে না তাঁদের প্রিয়জনের শেষ পরিণতি কী হয়েছিল। বহু মা এখনও সন্তানের অপেক্ষায় চোখের জল ফেলেন,” মন্তব্য করেন তিনি।

আড্ডায় উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দারাও সেই সময়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এক প্রবীণ গ্রামবাসী জানান, “সন্ধ্যা হলেই আমরা ঘরের আলো নিভিয়ে দিতাম। শিশু কাঁদলে মুখ চেপে ধরতাম, যাতে বাইরে শব্দ না যায়। পাহাড় তখন মানুষের নয়, ভয়ের দখলে ছিল।”

উল্লেখ্য, নব্বইয়ের দশকে ত্রিপুরার পাহাড়ি অঞ্চলে সক্রিয় ছিল সশস্ত্র জঙ্গি সংগঠন অল ত্রিপুরা টাইগার ফোর্স (এটিটিএফ)। সংগঠনটির নেতৃত্বে ছিলেন রঞ্জিত দেববর্মা। ভূমি ও জনজাতি অধিকার ইস্যুকে সামনে রেখে আন্দোলন শুরু হলেও পরবর্তীকালে সংগঠনটির বিরুদ্ধে অপহরণ, চাঁদাবাজি ও হামলার একাধিক অভিযোগ ওঠে। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালে কেন্দ্র সরকার সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।

পরে আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে মূলধারার রাজনীতিতে সক্রিয় হন রঞ্জিত দেববর্মা এবং বর্তমানে তিনি ত্রিপুরার জনজাতি ভিত্তিক আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল তিপ্রা মথা-এর বিধায়ক। তবে তাঁর অতীত ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক এখনও থামেনি।

চায়ের আড্ডায় মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা বলেন, “আজ ত্রিপুরা অনেক বদলেছে। পাহাড়ে বাজার বসছে, স্কুল চলছে, পর্যটক আসছেন। কিন্তু রাজ্যের শান্তি ও সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা এখনও কিছু চক্র করে যাচ্ছে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যাতে আবার সেই অন্ধকার দিন ফিরে না আসে।”

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande