বোরো ধানের চাষে ব্যস্ত মহেশপুরের কৃষকরা, খরচ নিয়ে উদ্বেগ
বক্সনগর (ত্রিপুরা), ৭ মার্চ (হি.স.) : সিপাহীজলা জেলার কাঁঠালিয়া ব্লকের দক্ষিণাংশের উত্তর মহেশপুর ও দক্ষিণ মহেশপুর পঞ্চায়েত এলাকায় এখন বোরো ধানের চাষ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। এলাকায় প্রায় ৬০ শতাংশ কৃষি জমিতে সেচের জলের ব্যবস্থা থাকায
চাষাবাদে ব্যাস্ত কৃষক


বক্সনগর (ত্রিপুরা), ৭ মার্চ (হি.স.) : সিপাহীজলা জেলার কাঁঠালিয়া ব্লকের দক্ষিণাংশের উত্তর মহেশপুর ও দক্ষিণ মহেশপুর পঞ্চায়েত এলাকায় এখন বোরো ধানের চাষ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। এলাকায় প্রায় ৬০ শতাংশ কৃষি জমিতে সেচের জলের ব্যবস্থা থাকায় ভোর হতেই মাঠে নেমে পড়ছেন চাষিরা এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিশ্রম করে চলেছেন।

বর্তমানে অধিকাংশ জমিতে বোরো ধানের রোঁয়া লাগানোর ১৫ থেকে ২০ দিন পার হয়ে গেছে। তাই এখন ধানের জমিতে আগাছা পরিষ্কার, রাসায়নিক সার প্রয়োগ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ দেওয়ার কাজ চলছে জোরকদমে। মাঠে মাঠে কৃষকদের এই ব্যস্ততা গ্রামীণ জীবনের চিরচেনা দৃশ্য হয়ে উঠেছে।

শনিবার দুপুরে উত্তর মহেশপুর এলাকার কৃষি জমিতে দেখা যায় চাষি খোকন দে ও বিষ্ণু দে নিজেদের জমিতে কাজ করছেন। দুজনেই দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত। বিকল্প কোনও কর্মসংস্থান না থাকায় কৃষিকাজের উপরই তাঁদের পুরোপুরি নির্ভর করতে হয়। কেউ দুই কানি, কেউ তিন কানি জমিতে বোরো ধানের চাষ করে সংসার চালানোর চেষ্টা করছেন।

সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তাঁরা কৃষিকাজের নানা সমস্যার কথাও তুলে ধরেন। তাঁদের অভিযোগ, অল্প জমিতে চাষ করলেও খরচের পরিমাণ দিন দিন বেড়ে চলেছে। সার, কীটনাশক ও বীজসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ কিনতে গিয়ে অনেক সময় ধার-দেনা করতে হয়। কৃষক বিষ্ণু দে বলেন, “কৃষি দফতর থেকে তেমন কোনও সহায়তা পাই না। বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে চড়া দামে সার ও বিভিন্ন ওষুধ কিনতে হয়, ফলে খরচ অনেক বেড়ে যায়।”

সমাজে কৃষকদের ‘অন্নদাতা’ বলা হলেও বাস্তবে তাদের জীবন সংগ্রামময়। তাঁদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই খাদ্যশস্য উৎপাদিত হয়, যা সমাজের প্রতিটি মানুষের জীবনধারণের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পাশাপাশি গবাদি পশুর খাদ্যের জন্য প্রয়োজনীয় খড়ের জোগানও আসে এই কৃষিকাজ থেকেই।

তবে স্থানীয়দের মতে, গ্রামীণ এলাকার এই পরিশ্রমী কৃষকদের প্রতি রাজনৈতিক দল বা সরকারের নিয়মিত নজর কতটা রয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। অনেক কৃষকই বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাবে কৃষিকাজ চালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রবীণদের আশঙ্কা, এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে আগামী প্রজন্ম কৃষিকাজের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে।

এদিকে শুষ্ক মৌসুমের মধ্যেও সবুজ ধানের মাঠ প্রকৃতিকে নতুন প্রাণ দিয়েছে। মাঠে দেখা মিলছে বক পাখির ঝাঁকেরও। খাদ্যের সন্ধানে তারা মাঠে ঘুরে বেড়িয়ে পোকামাকড় খেয়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বসন্তের এই চিরাচরিত দৃশ্য গ্রামীণ জনজীবনে এখনও প্রকৃতির সৌন্দর্যকে সমৃদ্ধ করে চলেছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande