
দুর্গাপুর, ৭ মার্চ (হি.স.) : দুয়ারে নির্বাচন, তার আগেই ফ্লাইওভারের দাবিতে ভোট বয়কটের হুঁশিয়ারি। পশ্চিম বর্ধমানের পানাগড়ে ‘নো ফ্লাইওভার, নো ভোট’ লেখা পোস্টার ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। শনিবার পানাগড় বাজারের রেলপারের সিলামপুর রোড এলাকায় এই পোস্টার নজরে আসতেই এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়।
জানা যায়, পানাগড় বাজারের উপর দিয়ে হাওড়া–আসানসোল রেললাইন গিয়েছে। লাইনের উত্তর দিকে রয়েছে পানাগড় বাজার, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল এবং জাতীয় সড়ক। অন্যদিকে দক্ষিণে সিলামপুর, ভরতপুর, গাংবিল, আইমা-সহ প্রায় ২০টি গ্রামের বাসিন্দাদের পানাগড় বাজারে আসা-যাওয়া করতে হয়। তাদের রেললাইন পার হয়েই বাজারে যেতে হয়।
রেলগেট বন্ধ থাকলে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় এবং নাকাল হতে হয় সাধারণ মানুষকে। তাই দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় রেলওয়ে ওভারব্রিজ নির্মাণের দাবি উঠছে। অভিযোগ, পূর্বতন সাংসদ সুরিন্দর সিং আলুওয়ালিয়া পানাগড় ও মায়াবাজার-সহ একাধিক ক্রসিংয়ে ওভারব্রিজ নির্মাণের অনুমোদন করালেও তা নানা জটিলতায় আটকে পড়ে।
রেল ওভারব্রিজ নির্মাণে সাধারণত মোট খরচের এক-চতুর্থাংশ রাজ্য সরকার এবং বাকি তিন-চতুর্থাংশ রেল বহন করে। অভিযোগ, রাজ্যের অনুদান নিয়ে টালবাহানার কারণে দীর্ঘদিন ধরে পানাগড় ও দুর্গাপুরের মায়াবাজার এলাকায় ওভারব্রিজ নির্মাণের কাজ থমকে রয়েছে। পরে রেলমন্ত্রক পুরো খরচ বহনের সিদ্ধান্ত নিলেও জমি সংক্রান্ত জটিলতায় প্রকল্প এগোয়নি বলে জানা গেছে।
এরই মধ্যে নির্বাচন সামনে রেখে পানাগড়ে রেল ওভারব্রিজের দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শনিবার সিলামপুর রোডে ‘নো ফ্লাইওভার, নো ভোট’ লেখা পোস্টার পড়তেই শুরু হয় রাজনৈতিক বিতর্ক।
বিজেপির দুর্গাপুর–বর্ধমান সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি রমন শর্মা অভিযোগ করেন, পানাগড় ও মায়াবাজারে ওভারব্রিজ না থাকায় সাধারণ মানুষ, স্কুল পড়ুয়া এবং রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাঁর দাবি, রেল কর্তৃপক্ষ প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রস্তুত থাকলেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার জমি দিতে সহযোগিতা করছে না। তবে তিনি বলেন, ভোট বয়কট করা ঠিক নয়।
অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের পশ্চিম বর্ধমান জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ সমীর বিশ্বাস বলেন, রাজ্যে উন্নয়নের কাজ থেমে নেই। রেলের উদাসীনতার কারণেই ওভারব্রিজ নির্মাণের কাজ এগোয়নি। তিনি জানান, ভোট দেওয়া মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং এভাবে ভোট বয়কটের ডাক দেওয়া উচিত নয়।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা