
ঝাড়গ্রাম, ৭ মার্চ (হি.স.) : ধান জমিতে জল দিতে গিয়ে দলছুট হাতির আক্রমণে মৃত্যু হল এক মহিলার। শনিবার ঝাড়গ্রাম জেলার সাঁকরাইল বিটের হাড়িভাঙ্গা এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
বনদফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত মহিলার নাম মিথিলা মাহাত (৫৬)। তিনি সাঁকরাইল ব্লকের হাড়িভাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার ভোরে তিনি নিজের ধান জমিতে জল দেওয়ার জন্য মাঠে গিয়েছিলেন। সেই সময় নয়াগ্রামের দিক থেকে আসা একটি দলছুট হাতির সামনে পড়ে যান তিনি।
হাতিটিকে দেখে আতঙ্কে সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেন মিথিলা মাহাত। কিন্তু তার আগেই হাতিটি শুঁড় দিয়ে তাঁকে পেঁচিয়ে তুলে আছাড় মারে। ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর জখম হন। এরপর গ্রামবাসীরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে ভাঙ্গাগড় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঝাড়গ্রাম জেলা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত সাত-আট দিন ধরে সাঁকরাইল ব্লকের নেপুরা, ইটামান্ডুয়া, আমলাদাঁড়ি, দক্ষিণ রগড়া, গড়ধরা ও তেঁতুলিয়া সহ একাধিক গ্রামে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০টি হাতির একটি বড় দল ঘুরে বেড়াচ্ছে। হাতির দলটি এলাকায় তাণ্ডব চালিয়ে ধান সহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতি করছে বলেও অভিযোগ। ফলে দিনরাত আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন গ্রামবাসীরা।
বনদফতরের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই এলাকায় পর্যাপ্ত খাবার ও জলের উৎস থাকায় হাতির দলটি অন্যত্র যেতে চাইছে না। বনকর্মীরা একাধিকবার হাতির দলটিকে ড্রাইভ করে সরানোর চেষ্টা করলেও তারা বারবার ফিরে আসছে। বর্তমানে বনদফতরের কর্মীরা এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছেন এবং হাতির গতিবিধির ওপর নজর রাখছেন।
এ বিষয়ে খড়্গপুর ডিভিশনের ডিএফও মনীষ যাদব জানান, “ওই মহিলা জমিতে জল দিচ্ছিলেন। সেই সময় একটি দলছুট হাতির সামনে পড়ে যান। দুঃখজনকভাবে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। মৃতের পরিবারকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।”
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় হাতি নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। দ্রুত হাতির দলটিকে এলাকা থেকে সরানোর দাবি তুলেছেন গ্রামবাসীরা।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো