
তেলিয়ামুড়া (ত্রিপুরা), ৭ মার্চ (হি.স.) : বিপর্যয় মোকাবেলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি কতটা কার্যকর—তা নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে খোয়াই জেলার তেলিয়ামুড়া মহকুমায়। উদ্ধার কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে পড়ার ঘটনায় অতীতের এক মর্মান্তিক ঘটনার স্মৃতিও নতুন করে সামনে চলে এসেছে।
বিগত দিনে তেলিয়ামুড়া মহকুমার চাকমাঘাট মহকুমা শাসক কার্যালয় সংলগ্ন জাতীয় সড়কে দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছিলেন গাড়িচালক মিহির দেবনাথ। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে উদ্ধার করার চেষ্টা চললেও বিপর্যয় মোকাবেলার যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে পড়ায় জীবিত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার জেরে তৎকালীন মহকুমা শাসক পরিমল মজুমদারকে বরখাস্তও করা হয়েছিল।
সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আবারও সামনে এল একই ধরনের অব্যবস্থার ছবি। সম্প্রতি তেলিয়ামুড়া মহকুমা প্রশাসনের উদ্যোগে চাকমাঘাট নৌকাঘাট এলাকায় যুবক-যুবতীদের নিয়ে বিপর্যয় মোকাবেলা সংক্রান্ত একটি প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়। প্রশিক্ষণে জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধারকাজ পরিচালনা, নৌকা চালানো সহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রথমে তাত্ত্বিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
কিন্তু প্রায়োগিক পর্বে গিয়েই দেখা দেয় বিপত্তি। প্রশিক্ষণের জন্য আনা বোটটি চালু করতে গিয়ে সমস্যা দেখা দেয়। সুইচ দেওয়ার পরেও বোটের যন্ত্র চালু না হওয়ায় কার্যত থমকে যায় প্রশিক্ষণের প্র্যাকটিক্যাল অংশ।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, বিপর্যয় মোকাবেলার জন্য প্রশাসনের বিশেষ দল থাকলেও প্রয়োজনের সময় প্রায়ই যন্ত্রপাতি বিকল হয়ে পড়ে। অতীতে এই ধরনের অব্যবস্থার জেরেই এক যুবকের প্রাণহানি ঘটেছিল বলেও তারা স্মরণ করিয়ে দেন।
স্থানীয়দের একাংশের মতে, বিপর্যয়ের সময় দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য যন্ত্রপাতি সচল থাকা অত্যন্ত জরুরি। অথচ প্রশিক্ষণের মত গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচীতেই যদি বোটের যন্ত্র বিকল হয়ে পড়ে, তাহলে প্রকৃত বিপদের সময় পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে—তা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় জনগণ।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ