
নয়াদিল্লি, ১ এপ্রিল (হি.স.): দিল্লির সিভিক সেন্টারে অবস্থিত মেয়রের কার্যালয়ে বোমা হামলার হুমকিকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ই-মেলের মাধ্যমে এই হুমকি পাওয়া মাত্রই তৎপর হয়ে ওঠে দিল্লি পুলিশ ও একাধিক নিরাপত্তা সংস্থা। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল, ডগ স্কোয়াড এবং বিশেষ প্রশিক্ষিত বাহিনী গোটা চত্বর জুড়ে শুরু করে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হুমকি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কমলা মার্কেট থানার পুলিশ সিভিক সেন্টারের প্রতিটি অংশ ঘিরে ফেলে। বহু ঘণ্টা ধরে চলা তল্লাশিতে পার্কিং এলাকা, বেসমেন্ট, অফিস কক্ষ, করিডোর, মেয়রের দফতর—সব জায়গা খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিটি তলা এবং প্রবেশপথে বিশেষ নজরদারি চালানো হয়। তবে দীর্ঘ তল্লাশির পরেও কোথাও কোনও সন্দেহজনক বস্তু বা বিস্ফোরকের সন্ধান মেলেনি।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ মনে করছে, এটি ভুয়ো হুমকি বা কোনও দুষ্টামিমূলক কাজ হতে পারে। তবুও বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। ই-মেলটির উৎস চিহ্নিত করতে সাইবার ক্রাইম শাখা তদন্ত শুরু করেছে। প্রেরকের আইপি অ্যাড্রেস ট্র্যাক করা এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে।
ঘটনার পর সিভিক সেন্টারে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। প্রবেশের সময় প্রত্যেকের পরিচয়পত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। কোনও সন্দেহজনক কিছু নজরে এলে সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানাতে কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দিল্লি পুরনিগমে বিরোধী দলের নেতা অঙ্কুশ নারাং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগেও দিল্লি বিধানসভায় বোমা হামলার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। সেবারও পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী তৎপর হয়ে তল্লাশি চালালেও কোনও বিস্ফোরক বা সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি। ফলে বারবার এই ধরনের হুমকি ঘিরে রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
তবে প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রুখতে আরও কড়া নজরদারি ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য