
- ‘বিজেপি যেখানে ঐতিহ্যের সম্মান, সুরক্ষা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করে, তার বিপরীতে তারা দেশের ঐতিহ্য ও গৌরবময় ইতিহাসকে ঘৃণা করে’
বিশ্বনাথ (অসম), ১ এপ্রিল (হি.স.) : অসমে যদি কংগ্রেস ক্ষমতায় আসে, তা-হলে তারা অনুপ্রবেশকারীদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য আইন আনবে। তবে বিজেপি ও তার সহযোগীরা তা কখনও কার্যকর হতে দেবে না। বিজেপি যেখানে ঐতিহ্যের সম্মান, সুরক্ষা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করে, তার বিপরীতে তারা দেশের ঐতিহ্য ও গৌরবময় ইতিহাসকে ঘৃণা করে। বিশাল নির্বাচনী সমাবেশে বলেছেন বিজেপির শীর্ষ নেতা তথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
আজ বুধবার অসমের বিশ্বনাথ জেলার অন্তর্গত বিহালিতে দ্বিতীয় বিশাল জনসভায় ভাষণ দিচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। এর আগে তিনি ধেমাজি জেলার অন্তৰ্গত গোগামুখে আয়োজিত বিশাল নিৰ্বাচনী জনসভায় ভাষণ দিয়েছেন। গোগামুখের মতো বিহালির জনসভায়ও কংগ্রেসকে উন্নয়নবিরোধী, দুর্নীতির জননী এবং রাজ্যের পরিচয়, নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে ছেলেখেলা করার অভিযোগ তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ক্ষমতার জন্য কংগ্রেস অসমীয়াদের আত্মপরিচয় নিয়ে খেলা করছে, অসমীয়াদের আত্মপরিচয় এখন হুমকির মুখে। এই দল অনুপ্রবেশকারীদের মূলধারায় এনে রাজ্যের ক্ষতি করেছে।
মোদী বলেন, গোটা দেশ জানে কংগ্রেস উন্নয়নবিরোধী এবং স্বাধীন ভারতে দুর্নীতির জননী। অসমে কংগ্রেস এমন পাপ করেছে যার মূল্য এখানকার মানুষকে দিতে হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটব্যাংকের রাজনীতির জন্য কংগ্রেস অবৈধ জবরদখলকে উৎসাহিত করেছে, যার ফলে লক্ষ লক্ষ বিঘা জমি বেদখল হয়ে গেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজেপি সরকার এই অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে হাজার হাজার বিঘা জমি উদ্ধার করে রাজ্যের ঐতিহ্য ও পরিবেশ পুনরুদ্ধার করেছে। তিনি লাওখোয়া ও বুঢ়াচাপরি অভয়ারণ্যের প্রসঙ্গে বলেন, এক সময় এখান থেকে গণ্ডার হারিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু এখন সংরক্ষণের প্রচেষ্টার ফলে তারা ফিরে আসছে।
মোদী কংগ্রেসকে নিশানা করে বলেন, কংগ্রেসের সবচেয়ে বড় পাপ অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করা। এখন সেই কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে তাদের বাঁচাতে আইন আনতে চায়। তিনি স্পষ্ট করেছেন, বিজেপি ও এনডিএ এ ধরনের কোনও প্রচেষ্টা সফল হতে দেবে না।
উন্নয়নের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১০-১১ বছরে অসমে পরিকাঠামো, যোগাযোগ এবং অর্থনৈতিক কার্যকলাপে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। তিনি বলেন, আজ অসমের হাইওয়েতে যুদ্ধবিমান অবতরণ করছে, যা রাজ্যের পরিবর্তিত চিত্র তুলে ধরেছে।
আজ তিনি একটি বড় ঘোষণা করেছেন, বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের নীচে দেশের প্রথম আন্ডারওয়াটার টুইন টিউব সড়ক ও রেল সুড়ঙ্গ তৈরি করা হবে। এর জন্য প্রায় ১৮,৬৬২ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এর ফলে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অসম অপরিশোধিত তেল উৎপাদনে নতুন রেকর্ড গড়ছে এবং বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও দেশকে জ্বালানি ক্ষেত্রে শক্তিশালী করছে। তিনি বলেন, উন্নত রাস্তা, সেতু এবং রেল নেটওয়ার্ক কৃষি, শিল্প এবং পর্যটনকে উৎসাহিত করছে, যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছে।
নারী ক্ষমতায়নের ওপর জোর দিয়ে মোদী বলেন, সরকারের লক্ষ্য অসমে ৪০ লক্ষ ‘লাখপতি দিদি’ তৈরি করা। তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে মহিলাদের নিরাপত্তা, শিক্ষা ও আয় বাড়াতে অভূতপূর্ব কাজ হয়েছে। তিনি জানান, ২২ লক্ষেরও বেশি পরিবারকে পাকা বাড়ি দেওয়া হয়েছে এবং মহিলাদের বাড়ির মালিক করার জন্য কাজ করা হচ্ছে।
ভূমি অধিকারের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মিশন বসুন্ধরা’-র অধীনে ২৩ লক্ষেরও বেশি পরিবারকে জমির মালিকানা দেওয়া হয়েছে। একে তিনি জনজাতি ও বঞ্চিত সম্প্রদায়ের জন্য ‘সুরক্ষা কবচ’ বলে উল্লেখ করে বলেন, এটাই প্রকৃত সামাজিক ন্যায়।
চা বাগান শ্রমিকদের প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা মোদী বলেন, বিশ্বনাথের পরিচয় চা বাগানের সঙ্গে যুক্ত। অথচ কংগ্রেস দশকের পর দশক ধরে এই শ্রমিকদের উপেক্ষা করেছে। তিনি বলেন, ২০০ বছরের পরিশ্রম ও ঐতিহ্য থাকা সত্ত্বেও চা বাগানের শ্রমিকরা মৌলিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন।
ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি কংগ্রেসের উদাসীনতার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এই দলটি স্বাধীনতা সংগ্রামের কৃতিত্ব একটি পরিবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ করতে চেয়েছিল। তিনি কনকলতা বরুয়া ও ভূপেন হাজরিকার প্ৰসঙ্গে বলেন, অসমের মানুষ তাঁদের অপমান সহ্য করবে না।
মোদী বলেন, বিজেপি সরকার ভূপেন হাজরিকাকে ভারতরত্ন সম্মানে ভূষিত করেছে। অথচ এই কিংবদন্তিকে নিয়ে উপহাস করেছিল কংগ্রেস। এছাড়া তিনি বাবু ছবিলাল উপাধ্যায়কে স্মরণ করে বলেন, কংগ্রেস নিজেদের নেতাদেরই ভুলে গিয়েছিল, অথচ বিজেপি তাঁর নামে একটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের নামকরণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অসমে বন্যা ও ভূমিধসের সমস্যা মোকাবিলার জন্য শত শত কোটি টাকার প্রকল্পে কাজ চলছে এবং অতিরিক্ত ১৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
আজকের সমাবেশে ভোটারদের রেকর্ড সংখ্যায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মোদী বলেন, ‘আগামী ৯ এপ্রিল সব ভোটের রেকর্ড ভেঙে দেওয়া উচিত। বিজেপি-এনডিএর প্রত্যেক প্রার্থী অসমের উন্নয়নের সৈনিক।’ তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, রাজ্যে আবার বিজেপি সরকার গঠিত হলে অসম আরও দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস