
কলকাতা, ১০ এপ্রিল (হি. স.) : ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা এখন রাজনৈতিক শিবিরে নাম লেখাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাফিন চক্রবর্তী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা বিকাশনারায়ণ চৌধুরী ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগদান করলেন। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে এদিন তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপি-র পতাকা হাতে তুলে নেন।
এই উপলক্ষে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনের লড়াইয়ে এই দুই নতুন মুখ দলের প্রচার অভিযানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। মাফিন চক্রবর্তী বাংলা টেলিভিশন জগতের এক জনপ্রিয় নাম এবং এ পর্যন্ত প্রায় ২২টি ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন। আসন্ন নির্বাচনে তিনি বিজেপি-র পক্ষে জনসম্পর্ক ও প্রচার কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেবেন। অন্যদিকে, বিকাশনারায়ণ চৌধুরীর বিজেপি-তে যোগদান তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাঁর সম্পর্কে শুভেন্দু অধিকারী জানান, বিকাশবাবু তৃণমূলের প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই বামপন্থী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। বিশেষ করে ২০০৯ সালে পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটে রাজনৈতিক সংঘর্ষের সময় তিনি অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন এবং সেই কারণে তাঁকে কারাবাসও করতে হয়েছিল।
তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করে বিরোধী দলনেতা অভিযোগ করেন, দলের জন্য বছরের পর বছর লড়াই করা সত্ত্বেও বিকাশনারায়ণ চৌধুরীকে অবহেলার শিকার হতে হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক রাজনৈতিক মামলা দায়ের হলেও সংকটের সময় দল তাঁর পাশে থাকেনি। সেই ক্ষোভ থেকেই তিনি বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের যোগদানে বিজেপি-র শক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজুর উপস্থিতিতে প্রাক্তন টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজও বিজেপি-তে যোগদান করেছেন। বিজেপি নেতৃত্বের বিশ্বাস, গ্ল্যামার জগত এবং অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের এই সমন্বয় আগামী নির্বাচনে দলের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি