ঝাড়গ্রামে বিজেপির সভা, রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ স্মৃতি ইরানির
ঝাড়গ্রাম, ১০ এপ্রিল (হি.স.) : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝাড়গ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে প্রচারে গতি আনল বিজেপি। শুক্রবার বিনপুর-১ ব্লকের চন্দরপুর এলাকায় দলের প্রার্থী লক্ষীকান্ত সাউয়ের সমর্থনে জনসভা করেন কেন্দ্রীয় নেত্রী স্মৃতি ইরানি। সভা থেক
ঝাড়গ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী লক্ষীকান্ত সাউয়ের সমর্থনে জনসভা করলেন কেন্দ্রীয় নেত্রী স্মৃতি ইরানি


ঝাড়গ্রাম, ১০ এপ্রিল (হি.স.) : আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝাড়গ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে প্রচারে গতি আনল বিজেপি। শুক্রবার বিনপুর-১ ব্লকের চন্দরপুর এলাকায় দলের প্রার্থী লক্ষীকান্ত সাউয়ের সমর্থনে জনসভা করেন কেন্দ্রীয় নেত্রী স্মৃতি ইরানি। সভা থেকে তিনি রাজ্য সরকার ও প্রশাসনের বিরুদ্ধে একাধিক ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ শানানোর পাশাপাশি একাধিক প্রতিশ্রুতিও দেন।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্মৃতি ইরানি পুলিশ-প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকার বার্তা দিয়ে বলেন, “ক্ষমতায় এলে পুরনো সব মামলা পুনরায় খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রতিটি ঘটনার হিসাব নেওয়া হবে।” একইসঙ্গে বালি মাফিয়ার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

বিজেপি প্রার্থী লক্ষীকান্ত সাউয়ের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রার্থীর নাম লক্ষী, প্রতীক পদ্মফুল—তিনি জিতলে এলাকার উন্নয়ন নিশ্চিত হবে।” পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা রাজ্যের মানুষ সঠিকভাবে পাচ্ছেন না। ক্ষমতায় এলে লক্ষীর ভাণ্ডার ও যুব সাথী প্রকল্পের ভাতা দ্বিগুণ করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

সভাস্থলে পৌঁছানোর পথে খারাপ রাস্তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “হেলিপ্যাড থেকে সভাস্থলে আসতে কয়েক কিলোমিটার ভাঙা রাস্তা পেরোতে হয়েছে। সামনে অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও এই অবস্থায় রোগী বাঁচানো কঠিন।” অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা নিয়েও কটাক্ষ করে তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রের দেওয়া পরিষেবায় রাজ্য শুধু নিজেদের স্টিকার লাগাচ্ছে।

কৃষক ও মৎস্যজীবীদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক সহায়তা ও ধানের সহায়ক মূল্য যথাযথভাবে পৌঁছচ্ছে না। মৎস্যজীবীদের জন্য ৫ লক্ষ টাকার বিমা সুবিধার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

যুবকদের কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “রাজ্যের যুবকদের কাজের খোঁজে অন্য রাজ্যে যেতে হচ্ছে।” বিজেপি ক্ষমতায় এলে বেকার যুবক ও মহিলাদের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রসঙ্গে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পের উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, দেশের বহু হাসপাতালে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসার সুবিধা থাকলেও রাজ্যে তা কার্যকর করা হচ্ছে না।

তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “চাল নিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ও বালি চুরি—সব কিছুরই হিসাব নেওয়া হবে।” কর্মীদের উপর অত্যাচারের প্রতিটি ঘটনার বিচার হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

শেষে বাম ও তৃণমূলকে পরাজিত করে বিজেপিকে জেতানোর আহ্বান জানান স্মৃতি ইরানি। পাশাপাশি এক নির্যাতিতার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, বিজেপি প্রার্থীকে জয়ী করে তাঁদের পাশে থাকতে হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য সুখময় শতপথী, জেলা সভাপতি তুফান মাহাতসহ দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো




 

 rajesh pande