টিটিএএডিসি ভোটের আগে অশান্তি, টাকারজলায় পুলিশের উপর হামলা, আহত এসপি সহ অনেকে
আগরতলা, ১০ এপ্রিল (হি.স.) : ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি) নির্বাচনের প্রচারের শেষ দিনেও উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা এড়ানো গেল না। শান্তিপূর্ণ প্রচারের পরিবেশ নষ্ট করে শুক্রবার সিপাহীজলা জেলার টাকারজলা থানাধীন লাম
হামলা


আগরতলা, ১০ এপ্রিল (হি.স.) : ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি) নির্বাচনের প্রচারের শেষ দিনেও উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা এড়ানো গেল না। শান্তিপূর্ণ প্রচারের পরিবেশ নষ্ট করে শুক্রবার সিপাহীজলা জেলার টাকারজলা থানাধীন লামপ্রাইকামি এলাকায় সংঘটিত হয় হামলার ঘটনা, যা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন সকাল থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় ভোটারদের সমর্থন আদায়ে শেষ মুহূর্তের প্রচারে ব্যস্ত ছিলেন। তবে বিকেলের দিকে পরিস্থিতি আচমকাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যখন তিপ্রা মথা দলের সমর্থকেরা দলবদ্ধভাবে জড়ো হয়ে ১৮-টাকারজলা আসনের বিজেপি প্রার্থী নির্মল দেববর্মার বাড়ি ঘেরাও করে।

ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেন সিপাহীজলা জেলার পুলিশ সুপার বিজয় দেববর্মা। তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছতেই পরিস্থিতি আরও অবনতি হয় বলে অভিযোগ। উপস্থিত দুর্বৃত্তরা হঠাৎই উত্তেজিত হয়ে পুলিশ ও টিএসআর জওয়ানদের উপর চড়াও হয়। ইট, পাটকেল, গুল্টি এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়।

এসময় ঘটনাস্থল দিয়ে যাচ্ছিল একটি গাড়ি। দুর্বৃত্তদের হামলা থেকে রেহাই পায়নি সেই গাড়ির চালকও। তাঁকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে তিনি গুরুতরভাবে আহত হন। পাশাপাশি গাড়িটিতেও ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়।

পুলিশ সুপার বিজয় দেববর্মার নেতৃত্বে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হলে তাঁকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। গুল্টির আঘাতে তাঁর মাথা ও গলায় চোট লাগে। এছাড়াও ঘটনায় বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী ও টিএসআর জওয়ান আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর থেকেই এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে টহল জোরদার করা হয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। নির্বাচন কমিশনের তরফে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নেবে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।

উল্লেখ্য, টিটিএএডিসি নির্বাচনকে ঘিরে গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে উত্তেজনার পারদ চড়ছিল। তবে প্রচারের শেষ লগ্নে এমন সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহল। প্রসঙ্গত, ১২ এপ্রিল টিটিএএডিসি-র ২৮টি আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে। ১৭ এপ্রিল গণনা।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande