বিধানসভা নির্বাচনের আগে পাহাড়ে ফের গোর্খাল্যান্ড ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক তরজা
শিলিগুড়ি, ১১ এপ্রিল (হি. স.) : গোর্খাল্যান্ড ইস্যুকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে পাহাড়ের রাজনীতি। কলকাতায় বিজেপির নির্বাচনী ইস্তেহার বা ''সংকল্প পত্র'' প্রকাশ করার সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্পষ্ট জানান, বাংলার ঐক্য বজায়
বিধানসভা নির্বাচনের আগে পাহাড়ে ফের গোর্খাল্যান্ড ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক তরজা


শিলিগুড়ি, ১১ এপ্রিল (হি. স.) : গোর্খাল্যান্ড ইস্যুকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হতে শুরু করেছে পাহাড়ের রাজনীতি। কলকাতায় বিজেপির নির্বাচনী ইস্তেহার বা 'সংকল্প পত্র' প্রকাশ করার সময় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্পষ্ট জানান, বাংলার ঐক্য বজায় রেখেই পাহাড়ের সমস্যার স্থায়ী সাংবিধানিক সমাধান খোঁজা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই পাহাড়ের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।

অমিত শাহের এই বার্তার পর সরব হয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। ভারতীয় গোর্খা প্রজাতান্ত্রিক মোর্চার দাবি, বিজেপি কখনোই পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের পক্ষে ছিল না এবং ভোটের সময় পাহাড়ের মানুষকে কেবল বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। অন্যদিকে, গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা নেতা রোশন গিরি বলেন, বিজেপি বরাবরই সাংবিধানিক সমাধানের কথা বলেছে, কিন্তু পৃথক রাজ্যের প্রতিশ্রুতি সরাসরি দেয়নি।

তৃণমূল কংগ্রেস নেতা উদয়ন গুহ এই ইস্যুতে বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেন, বিজেপি দীর্ঘ সময় ধরে পাহাড়ের মানুষকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিভ্রান্ত করেছে এবং এখন সেই সত্য জনসমক্ষে আসছে।

উল্লেখ্য যে, গোর্খাল্যান্ডের দাবি প্রায় ১০০ বছরের পুরনো। এটি কেবল একটি রাজনৈতিক ইস্যু নয়, বরং পাহাড়ের মানুষের আবেগের সাথে জড়িত। আশির দশকে এই আন্দোলন রক্তাক্ত রূপ নিয়েছিল এবং বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। পরবর্তীতে সুভাষ ঘিসিং-এর নেতৃত্বে দার্জিলিং গোর্খা হিল কাউন্সিল গঠিত হয়।

২০০৭ সালে বিমল গুরুং-এর নেতৃত্বে গোর্খাল্যান্ড আন্দোলন পুনরায় চাঙ্গা হয় এবং পাহাড়জুড়ে ব্যাপক সমর্থন পায়। এই আবেগকেই হাতিয়ার করে ২০০৯ সাল থেকে দার্জিলিং পার্বত্য এলাকায় টানা নির্বাচনী সাফল্য পেয়ে আসছে বিজেপি।

তবে দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হলেও পাহাড়ের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের ক্ষেত্রে কোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি পাহাড়ের ১১টি জনজাতিকে তফশিলি জনজাতির মর্যাদা দেওয়ার দীর্ঘদিনের দাবিটিও এখনও ঝুলে রয়েছে। নির্বাচনের আগে এই অমীমাংসিত ইস্যুগুলোই এখন পাহাড়ের রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande