
পশ্চিম মেদিনীপুর, ১১ এপ্রিল (হি. স.) : পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশিয়াড়িতে এক নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) স্থানীয় প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, কেশিয়াড়ি এলাকায় আরএসএস-এর একটি শক্তিশালী ঘাঁটি রয়েছে, যেখানে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় এবং বন্দুক চালানোর মতো কর্মকাণ্ডও শেখানো হয়।
মুখ্যমন্ত্রী এদিন কড়া সুরে বলেন, “আমার কাছে সমস্ত তথ্য রয়েছে। যাঁরা ভালো কাজ করবেন তাঁরা সম্মান পাবেন, কিন্তু যাঁরা ভোট কাটার চেষ্টা করবেন, তাঁদের বিসর্জন দিয়ে দিন।” মূলত নির্বাচনের মুখে পাহাড় ও জঙ্গলমহল এলাকায় আরএসএস-এর ক্রমবর্ধমান সক্রিয়তা নিয়ে তৃণমূল নেত্রী যে যথেষ্ট সজাগ, তাঁর এই মন্তব্যেই তা স্পষ্ট হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে পাল্টা সরব হয়েছে আরএসএস নেতৃত্ব। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের দক্ষিণবঙ্গ প্রচার প্রমুখ বিপ্লব রায় জানিয়েছেন যে, ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গকে ঠিকমতো চিনতে পারেননি। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর না আছে বাংলা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান, আর না আছে আরএসএস সম্পর্কে কোনো ধারণা। বিপ্লব রায়ের দাবি, কেশিয়াড়িতে আরএসএস-এর কোনো স্থায়ী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রই নেই, ফলে মুখ্যমন্ত্রীর এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ভুল।
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, আরএসএস-এর শাখাগুলোতে মূলত স্বেচ্ছাসেবকদের শারীরিক, বৌদ্ধিক এবং সাংগঠনিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ব্যায়াম, দণ্ড (লাঠি) অভ্যাস, খেলাধুলা, যোগাসন এবং কুচকাওয়াজের মতো শরীরচর্চা করানো হয়। পাশাপাশি ভারতের ইতিহাস, সংস্কৃতি, জাতীয়তাবাদ এবং সামাজিক দায়িত্ববোধের ওপর বৌদ্ধিক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হলো শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা এবং সমাজসেবার মানসিকতা গড়ে তোলা। কোনো ধরণের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ সঙ্ঘের শাখায় দেওয়া হয় না বলে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি