
নয়াদিল্লি, ১১ এপ্রিল (হি.স.) : পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনার মাঝেও দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানাল কেন্দ্রীয় সরকার। শনিবার সরকার জানায়, একদিনে ৫১.৫ লক্ষের বেশি এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়েছে এবং এখনও পর্যন্ত ৮.৭ লক্ষ ভারতীয় নিরাপদে স্বদেশে ফিরেছেন।
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানায়, ১০ এপ্রিলেই ৫১.৫ লক্ষের বেশি গৃহস্থালীর রান্নার গ্যাস এলপিজি সিলিন্ডার সরবরাহ করা হয়েছে। হরমুজ প্রণালী সংলগ্ন পরিস্থিতির কারণে সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ থাকলেও দেশে কোনও ঘাটতির খবর নেই।
মন্ত্রকের দাবি, এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছে পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে নির্বিঘ্ন রাখতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গৃহস্থালী এলপিজি ও পিএনজি সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিকেও উচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
বর্তমানে দেশে প্রায় ৯৮ শতাংশ এলপিজি বুকিং অনলাইনে হচ্ছে। ডেলিভারি অথেন্টিকেশন কোড (ডিএসি) ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় ৯৩ শতাংশ সরবরাহ সম্পন্ন হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে, যা গ্যাসের অপব্যবহার রোধে সহায়ক।
মন্ত্রক আরও জানায়, নাগরিকদের বিকল্প জ্বালানি হিসেবে পিএনজি ও ইলেকট্রিক বা ইন্ডাকশন কুকটপ ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ২৬ হাজারের বেশি পিএনজি গ্রাহক তাদের এলপিজি সংযোগ ত্যাগ করেছেন।
দেশের সমস্ত রিফাইনারি পর্যাপ্ত কাঁচা তেলের মজুত নিয়ে উচ্চ ক্ষমতায় কাজ করছে এবং পেট্রোল-ডিজেলেরও যথেষ্ট মজুত রয়েছে। দেশীয় চাহিদা মেটাতে এলপিজির উৎপাদনও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
এছাড়া, গত আট দিনে ৫ কেজির সিলিন্ডার ব্যবহারে সচেতনতা বাড়াতে প্রায় ২ হাজার ৯০০টি শিবির আয়োজন করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি। ভারতীয় পতাকাবাহী এলপিজি জাহাজ ‘জগ বিক্রম’ প্রায় ২০ হাজার ৪০০ মেট্রিক টন এলপিজি নিয়ে নিরাপদে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে।
সরকার জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮১ জন ভারতীয় নাবিক দেশে ফিরেছেন। ভারতীয় দূতাবাসগুলি ২৪ ঘণ্টা হেল্পলাইন চালু রেখে নাগরিকদের সহায়তা করছে।
পাশাপাশি, প্রয়োজনীয় পণ্য আইন, ১৯৫৫ এবং এলপিজি নিয়ন্ত্রণ আদেশ, ২০০০ অনুযায়ী রাজ্য সরকারগুলিকে সরবরাহ পরিস্থিতি নজরদারি ও মজুতদারি বা কালোবাজারি রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য