এফআইআর বাতিলের আবেদন নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ নন্দীগ্রামের তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র কর
কলকাতা, ১১ এপ্রিল (হি. স.) : নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী পবিত্র করের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর-কে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। শুক্রবার এই এফআইআর বাতিলের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছ
কলকাতা হাই কোর্ট


কলকাতা, ১১ এপ্রিল (হি. স.) : নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী পবিত্র করের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর-কে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। শুক্রবার এই এফআইআর বাতিলের আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন পবিত্র কর। এর পাশাপাশি আইনি পদক্ষেপ থেকে রক্ষাকবচ চেয়েও আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

আদালত সূত্রের খবর, বিচারপতি অজয় কুমার মুখোপাধ্যায়ের বেঞ্চে মামলাটির দ্রুত শুনানির আর্জি জানান পবিত্র কর। আদালত তাঁকে মামলা দায়ের করার অনুমতি দিয়েছে। আগামী সপ্তাহে এই মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উল্লেখ্য, আগামী ২৩ এপ্রিল নন্দীগ্রামে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, তার আগেই এই আইনি জট কাটানোর ওপর জোর দিচ্ছেন তৃণমূল প্রার্থী।

এই পুরো বিতর্কের মূলে রয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা তথা নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার হলদিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর সভার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে গিয়ে পবিত্র করের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন তিনি। শুভেন্দু দাবি করেন, স্ক্রুটিনির সময় তিনি আপত্তি জানাননি, তবে চাইলে পবিত্রর মনোনয়ন বাতিল হতে পারত। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কী করে একজন ব্যক্তি একই সাথে দুটি রাজনৈতিক দলের সদস্য হতে পারেন?

শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, পবিত্র কর আগে বিজেপির প্রতীকে জিতে পঞ্চায়েত সদস্য হয়েছিলেন। সেই পদ থেকে ইস্তফা না দিয়ে বা আইনি প্রক্রিয়া না মেনে এখন তৃণমূলের হয়ে নির্বাচনে লড়াই করছেন, যা আইনত সিদ্ধ নয়। এই অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই নির্বাচন কমিশন সক্রিয় হয়ে ওঠে।

শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কমিশন কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করে। বৃহস্পতিবার পবিত্র করের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। যদিও প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় পবিত্র কর জানিয়েছিলেন যে তিনি এই বিষয়ে অবগত নন, তবে পরবর্তীতে তিনি আইনি লড়াইয়ের পথ বেছে নেন এবং শুক্রবার কলকাতা হাইকোর্টের দারস্থ হন।

প্রসঙ্গত, দলবদলের জেরে সম্প্রতি সুমন কাঞ্জিলাল, হারকালি প্রতিহার, তাপসী মন্ডল এবং তন্ময় ঘোষের মতো বিধায়কদের পদত্যাগ করতে হয়েছে। এমনকি সাগরদিঘির বিধায়ক বাইরন বিশ্বাসকেও কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর পদ ছাড়তে হয়েছিল। এই আবহে পবিত্র করের মামলাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন আদালতের রায়ের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক মহল, কারণ এই মামলার ফলাফলের ওপর নন্দীগ্রামের লড়াইয়ের ভাগ্য নির্ধারিত হতে পারে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande