ওড়িশায় রেল থেকে পড়ে নিহত ত্রিপুরার যুবক, কাঞ্চনমালায় শেষ বিদায়ে শোকের ছায়া
আগরতলা, ১১ এপ্রিল (হি.স.) : ওড়িশায় সাম্প্রতিক এক মর্মান্তিক রেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ত্রিপুরার যুবক রমজান মিয়াকে শনিবার তাঁর নিজ গ্রাম কাঞ্চনমালায় লক্ষ্মীছড়ায় শেষ বিদায় জানাতে গিয়ে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে গোটা এলাকা। পরিবারের সদস্যদের কান্না আর
নিহত যুবক রমজান মিয়া


আগরতলা, ১১ এপ্রিল (হি.স.) : ওড়িশায় সাম্প্রতিক এক মর্মান্তিক রেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ত্রিপুরার যুবক রমজান মিয়াকে শনিবার তাঁর নিজ গ্রাম কাঞ্চনমালায় লক্ষ্মীছড়ায় শেষ বিদায় জানাতে গিয়ে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে গোটা এলাকা। পরিবারের সদস্যদের কান্না আর স্বজন প্রতিবেশীদের ভিড়ে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

জানা গেছে, সোনা মিয়ার ছোট ছেলে রমজান মিয়া প্রায় ছয় মাস আগে জীবিকার সন্ধানে চেন্নাইয়ে পাড়ি দেন। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনাই ছিল তাঁর মূল লক্ষ্য। পরিশ্রমী ও দায়িত্বশীল এই যুবক নিয়মিত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং তাঁদের সহায়তায় সদা সচেষ্ট ছিলেন।

সম্প্রতি বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা হন রমজান। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, ওড়িশায় চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন তিনি। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে রেল পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। খবর পেয়ে পরিবারের ওপর নেমে আসে শোকের ছায়া।

রেল পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতায় ময়নাতদন্তের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এরপর শনিবার ভোরবেলা তাঁর মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে নিজ গ্রামে নিয়ে আসা হয়। মরদেহ গ্রামে পৌঁছাতেই শোকের আবহে ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। আত্মীয়-স্বজন ও এলাকার মানুষ শেষবারের মতো তাঁকে দেখতে ভিড় জমান।

স্থানীয়দের কথায়, রমজান ছিলেন অত্যন্ত ভদ্র, নম্র ও হাসিখুশি স্বভাবের যুবক। সবার সঙ্গে তাঁর আন্তরিক সম্পর্ক ছিল এবং যে কোনও প্রয়োজনে তিনি এগিয়ে আসতেন। তাঁর অকাল মৃত্যুতে শুধু পরিবার নয়, গোটা এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

দিনের শেষে ইসলামিক রীতি অনুযায়ী তাঁর জানাজার নামাজ আদায় করা হয়। পরে গ্রামের বাড়ির কাছেই তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। গ্রামের মানুষজনের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয় এই শেষ বিদায়ের মুহূর্ত, যা পরিণত হয় এক আবেগঘন পরিবেশে।

রমজান মিয়ার এই অকাল প্রয়াণে তাঁর পরিবার যেমন দিশেহারা, তেমনই শোকাহত গোটা কাঞ্চনমালা লক্ষ্মীছড়া এলাকা। তাঁর স্মৃতি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande