
মুর্শিদাবাদ, ১১ এপ্রিল (হি. স.)) : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের মুখে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে শনিবার মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের জনসভা থেকে ‘ডিলিটেড’ বা বাদ পড়া ভোটারদের বড়সড় আশ্বাস দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন রেজিনগরের শক্তিপুর থানা এলাকার প্রতাপ সংঘ খেলার মাঠে রেজিনগর ও ভরতপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী যথাক্রমে আতাউর রহমান এবং মুস্তাফিুজুর রহমান সুমনের সমর্থনে এক সভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেই সভা থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেন, আগামী ৪ মে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হলে, নির্বাচন কমিশন যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে, এক মাসের মধ্যে তাঁদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
অভিষেক এদিন জোর দিয়ে বলেন যে, যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে তাঁদের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই, কারণ তাঁরা এই রাজ্যের তথা দেশেরই নাগরিক। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, তৃণমূল কংগ্রেস শুরু থেকেই বাংলায় এনআরসি চালু হতে না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এবং গত পাঁচ বছরে এ রাজ্যে এনআরসি কার্যকর হয়নি।
এদিনের সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মুর্শিদাবাদের সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং বিরোধীদের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, এই জেলায় বিজেপি ও কংগ্রেস ছাড়াও হুমায়ুন কবীরের ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ এবং আসাউদ্দিন ওয়াইসির দল ‘মিম’ তৃণমূলের বিরুদ্ধে ময়দানে নেমেছে। সম্প্রতি হুমায়ুন কবীর সম্পর্কিত একটি বিতর্কিত ভিডিও নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিষেক বলেন, ভিডিওটি যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ দিয়ে তৈরি ভুয়ো ভিডিওই হতো, তবে কেন তাঁর দলের প্রদেশ সভাপতি পদত্যাগ করলেন এবং কেনই বা মিম তাঁর থেকে দূরত্ব বজায় রাখছে।
উল্লেখ্য, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর আসন থেকে তৃণমূল কংগ্রেস আতাউর রহমানকে প্রার্থী করেছে। অন্যদিকে, হুমায়ুন কবীর এবার নওদা এবং রেজিনগর—উভয় আসন থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি