
কলকাতা, ১২ এপ্রিল ( হি. স.) : বাংলার নবজাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ অক্ষয় কুমার দত্ত-এর স্মৃতি বিজড়িত বসতবাড়ি - ‘শোভনোদ্যান’ রক্ষার দাবিতে রবিবার হাওড়ার বালিতে কনভেনশনের আয়োজন করল বঙ্গীয় সাক্ষরতা প্রসার সমিতি। দীর্ঘদিন ধরে চলা আন্দোলনের অংশ হিসেবে এই কর্মসূচি বলে জানিয়েছে আয়োজকরা। সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এই কনভেনশনে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন স্তরের যুক্তিবাদী ও প্রগতিশীল মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। সভা থেকে ‘শোভনোদ্যান’-এ চলতে থাকা বেআইনি নির্মাণ অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি তোলা হয়। পাশাপাশি ওই ঐতিহ্যবাহী স্থানে একটি সাংস্কৃতিক চর্চাকেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাবও উঠে আসে। সমিতির সাধারণ সম্পাদক অনুপ সরকার সূচনায় খসড়া প্রস্তাব পেশ করে জানান, সমিতি ও বিশিষ্ট নাগরিকদের যৌথ উদ্যোগে আদালতে দায়ের করা আবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট নির্মাণে সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি হয়েছে। তবে সেটিকে চূড়ান্ত সাফল্য হিসেবে দেখতে নারাজ তিনি। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনের একাংশের উদাসীনতা বেআইনি নির্মাণকারীদের পরোক্ষভাবে মদত জোগাচ্ছে। বক্তাদের একাংশের বক্তব্যে উঠে আসে, এই আন্দোলনের বিরোধী শক্তির আর্থিক ও প্রশাসনিক প্রভাব যথেষ্ট বলীয়ান। সেই প্রেক্ষিতে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণই এই লড়াইয়ের মূল শক্তি হতে পারে বলে মত প্রকাশ করা হয়। বালি ও সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দাদের আরও বেশি করে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর সর্বস্তরে জোর দেওয়া হয়েছে । সভায় বর্তমান সময়ে ক্রমবর্ধমান ধর্মীয় গোঁড়ামির প্রসঙ্গও উঠে আসে। বক্তাদের মতে, এই পরিস্থিতিতে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর-এর মতো মনীষীদের মানবতাবাদী ও যুক্তিবাদী চিন্তা নতুন করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। অক্ষয় দত্তের বিজ্ঞানমনস্কতা ও যুক্তিবাদী দর্শন সমাজের বৃহত্তর স্তরে ছড়িয়ে দেওয়া এই আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য—এ কথাও স্পষ্ট করেন তাঁরা। কনভেনশনে উপস্থিত ছিলেন অক্ষয়-গবেষক আশীষ লাহিড়ী, প্রাবন্ধিক অধ্যাপক শক্তিসাধন মুখোপাধ্যায়, অর্ণব চট্টোপাধ্যায়-সহ বহু বিশিষ্টরা। পরিশেষে, সমিতির কার্যকরী সভাপতি বিকাশ রায় সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতে আরও সংগঠিতভাবে আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। সভায় উত্থাপিত প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত