




- রঙালি বিহু ও নববর্ষ উপলক্ষ্যে অসমবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন রাজ্যপালের
গুয়াহাটি, ১৪ এপ্রিল (হি.স.) : অসমের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রঙালি বিহু সমাজে আনন্দ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনে, রঙালি বিহু ও নববর্ষ উপলক্ষ্যে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন রাজ্যপাল লক্ষ্মণপ্রসাদ আচার্য।
আজ মঙ্গলবার গুয়াহাটির খারঘুলি ময়দানে রঙালি বিহুর উদ্বোধন করে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য পেশ করছিলেন রাজ্যপাল লক্ষ্মণপ্রসাদ আচার্য। তিনি বলেন, রঙালি বিহু নতুন সূচনা, আশা ও সম্প্রীতির প্রতীক। এই উৎসব অসমের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি সমাজে আনন্দ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনে। তিনি আরও বলেন, ভারত উৎসবের দেশ, এ ধরনের উৎসব সামাজিক সম্প্রীতি, সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ঐক্যকে সুদৃঢ় করে।
অসমের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে রাজ্যপাল আচার্য বলেন, বিভিন্ন জনগোষ্ঠী, ভাষা ও সংস্কৃতির মিলনে গড়ে ওঠা এই রাজ্য বৃহত্তর অসমীয়া পরিচয়ের এক অনন্য উদাহরণ। রঙালি বিহু উৎসব তথা অসমীয়া নববর্ষ মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির গভীর সম্পর্ককে প্রতিফলিত করে এবং সবাইকে একত্রে আনন্দ উদযাপনে উদ্বুদ্ধ করে।
নিজের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, অসমের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ফলে এখানকার মানুষের ঐতিহ্য রক্ষার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও গর্ব তিনি উপলব্ধি করতে পেরেছেন। প্রকৃতির প্রতি অসমবাসীর ভালোবাসাকেই তিনি এই রাজ্যের আত্মা হিসেবে অভিহিত করেন। রঙালী বিহুকে তার সবচেয়ে সুন্দর প্রকাশ বলে উল্লেখ করেন রাজ্যপাল লক্ষ্মণপ্রসাদ।
রাজ্যপাল লক্ষ্মণপ্রসাদ আচার্য বলেন, কৃষিনির্ভর উৎসব হিসেবে বিহু কৃষকদের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে গান ও নৃত্যের মাধ্যমে তুলে ধরে, যা একে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিহু আজ ভৌগোলিক সীমানা অতিক্রম করে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি অর্জন করেছে। দেশ-বিদেশে বসবাসকারী অসমীয়া সম্প্রদায় অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে এই উৎসব উদযাপন করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে অসমের সাংস্কৃতিক বৈভব তুলে ধরছে। তিনি গর্বের সঙ্গে বলেন, রাজ্য সরকার ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় রঙালি বিহু গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস-এ স্থান পেয়েছে, যা অসমের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের প্রমাণ।
রঙালি বিহু উদযাপন উপলক্ষ্যে লুইত শীর্ষক এক স্মরণিকা উন্মোচন করেন রাজ্যপাল। অনুষ্ঠানের শুরুতে খারঘুলি রঙালি বিহু সম্মিলনীর সভাপতি দিব্যজ্যোতি কলিতা স্বাগত ভাষণ এবং কার্যনির্বাহী সভাপতি নবকুমার ডেকা ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। অনুষ্ঠানে তিনি জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী জুবিন গাৰ্গের প্রতিও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ বিজুলি কলিতা মেধি, এএম টেলিভিশন-এর সিএমডি সঞ্জীব নারায়ণ সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি। এর আগে আজ সকালে লোক ভবন-এ ঐতিহ্যবাহী রীতিতে গরু বিহুও উদযাপন করেছেন রাজ্যপাল লক্ষ্মণপ্রসাদ আচার্য।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস