মণিপুরে মর্টার বিস্ফোরণে নিহত শিশুদের ন্যায় প্রদানের দাবিতে রাজ্যে ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন
ইমফল, ১২ এপ্রিল (হি.স.) : মণিপুরের বিষ্ণুপুর জেলায় মর্টার বিস্ফোরণে নিহত শিশুদের ন্যায় প্রদানের দাবিতে আজ রবিবার রাজ্যের বিভিন্ন উপত্যকা জেলায় ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন চলছে। আজ সকাল সকাল ৫-টা থেকে বিকাল ৩-টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল করার পরই এই প্রতিব
বিক্ষোভ-মিছিলে শিশুর দল


ইমফল, ১২ এপ্রিল (হি.স.) : মণিপুরের বিষ্ণুপুর জেলায় মর্টার বিস্ফোরণে নিহত শিশুদের ন্যায় প্রদানের দাবিতে আজ রবিবার রাজ্যের বিভিন্ন উপত্যকা জেলায় ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন চলছে। আজ সকাল সকাল ৫-টা থেকে বিকাল ৩-টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল করার পরই এই প্রতিবাদী কর্মুসূচি পালিত হচ্ছে।

ইমফল পশ্চিমের উরিপোক আপুনবা লুপ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে নাগরিক সংগঠনের উদ্যোগে এই দাবির ভিত্তিতে বিশাল মিছিল লাম্বুই খোংনাংখোং থেকে শুরু হয়ে বাজার ওভারব্রিজ এলাকার দিকে অগ্রসর হয়। সেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন মিছিলে। এই বিক্ষোভ-মিছিলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু ও বালক-বালিকার অংশগ্রহণ বিষয়টিকে আবেগঘন করে তুলেছে।

অনুরূপ প্রতিবাদী মিছিল ইমফল পূর্ব জেনায়ও বিভিন্ন এলাকা যেমন উখরুল রোড, টিনসেট রোড ও পাঙ্গেই রোড থেকে বের হয়ে লামলং বাজারে একত্রিত হয়। সেখানেও হাজার হাজার মানুষ মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া সাঙ্গাকফাম, ইরিলবুং বাজার, ময়াং ইমফল, কংবা নান্দেইবাম লেইকাই এবং ইউমনাম হুইদ্রম এলাকায়ও বিক্ষোভ প্রদর্শন হয়েছে।

প্রতিবাদকারীরা নিহতদের জন্য ন্যায়বিচার এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। উরিপোক আপুনবা লুপের সাধারণ সম্পাদক সুনীল ধ্রুব সিংহ বলেন, ‘আমরা, উরিপোক এলাকার বাসিন্দা, মায়েরা এবং ক্লাব সংগঠনগুলো একত্রিত হয়ে মর্টার হামলায় নিহত দুই শিশুর জন্য ন্যায়বিচারের দাবিতে এবং সিআরপিএফ-এর নিরাপত্তা ত্রুটির অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে বিষ্ণুপুর, ইমফল পূর্ব এবং ইমফল পশ্চিম জেলার ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেটরা সকাল ৫-টা থেকে বিকাল ৩-টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল করেছিলেন, যাতে সাধারণ মানুষের চলাচল ও জরুরি পরিষেবা চালু রাখা যায়। তবে বিকেল ৩-টা থেকে সকাল ৫-টা পর্যন্ত কারফিউ বহাল রয়েছে। এতে অবৈধ জমায়েত, অস্ত্র, লাঠি, পাথর বা বিস্ফোরক বহনের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা, বিদ্যুৎ, জল সরবরাহ, ব্যাংকিং, সংবাদ মাধ্যম ও টেলিযোগাযোগ সহ জরুরি পরিষেবাগুলোকে এই নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, বিক্ষোভগুলোর সূত্রপাত মইরাং-এর ত্ৰংলাওবি এলাকায় সংঘটিত মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে। গত ৭ এপ্রিল ভোররাতে ত্ৰংলাওবির একটি বাড়িতে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ঘুমন্ত অবস্থায় দুই শিশুর মৃত্যুর পাশাপাশি তাদের মা সহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছিলেন। ঘটনাস্থলের কাছে একটি সিআরপিএফ ক্যাম্প থাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

এদিকে প্ৰশাসন আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি জনগণের উদ্বেগের যথাযথ সমাধান করার আশ্বাস দিয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande