ত্রিপুরায় ৪ দিনে ২ হাতির মৃত্যু, অনাহার ও অবহেলার অভিযোগে ক্ষোভ
কৈলাসহর (ত্রিপুরা), ১২ এপ্রিল (হি.স.) : ত্রিপুরায় ফের সামনে এল হৃদয়বিদারক এক বাস্তব ছবি, যেখানে অবহেলা ও অনিয়মের বলি হচ্ছে নিরীহ বন্যপ্রাণী। মাত্র চার দিনের ব্যবধানে উত্তর ত্রিপুরা ও ঊনকোটি জেলায় দুইটি হাতির মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়
হাতির মৃত্যু


কৈলাসহর (ত্রিপুরা), ১২ এপ্রিল (হি.স.) : ত্রিপুরায় ফের সামনে এল হৃদয়বিদারক এক বাস্তব ছবি, যেখানে অবহেলা ও অনিয়মের বলি হচ্ছে নিরীহ বন্যপ্রাণী। মাত্র চার দিনের ব্যবধানে উত্তর ত্রিপুরা ও ঊনকোটি জেলায় দুইটি হাতির মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রথম ঘটনাটি ঘটে ৮ এপ্রিল, ঊনকোটি জেলার পেঁচারথল এলাকার আন্ধার ছড়ায়। সেখানে প্রায় ১৪ বছর বয়সী একটি হাতির মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই পর্যাপ্ত খাদ্য ও সঠিক পরিচর্যার অভাবে ভুগছিল হাতিটি। এরপর ১০ এপ্রিল উত্তর জেলার ঠান্ডা ছড়া এলাকায় আরও এক মর্মান্তিক ঘটনা সামনে আসে। প্রায় ৪৫ বছর বয়সী একটি হাতি একইভাবে অনাহারে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

দ্বিতীয় ঘটনাটি আরও বেশি নাড়িয়ে দিয়েছে সাধারণ মানুষকে। মৃত হাতিটির চার বছরের একটি শাবক মায়ের নিথর দেহের পাশে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকে। সেই অসহায় দৃশ্য প্রত্যক্ষ করে স্থানীয় বাসিন্দারা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ‘দানপত্র’-এর আড়ালে হাতি হস্তান্তর বা কেনাবেচার নামে এক ধরনের বাণিজ্যিক কার্যকলাপ চলতে পারে, যেখানে প্রাণীদের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও খাদ্যের বিষয়টি উপেক্ষিত হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, এই অনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার ফলে হাতিগুলি মানবসৃষ্ট সংকটে পড়ছে এবং ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

বাসিন্দাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট দফতরের তদারকি ও নিয়ন্ত্রণের অভাবই এই পরিস্থিতির অন্যতম কারণ। এখনও এলাকায় বেশ কয়েকটি হাতি একই ধরনের সংকটে দিন কাটাচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে আরও প্রাণহানির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পরিবেশপ্রেমী ও প্রাণী অধিকার কর্মীদের মতে, অবিলম্বে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া এবং হাতিগুলির জন্য সুষ্ঠু খাদ্য, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande