
গুয়াহাটি, ১৩ এপ্রিল (হি.স.) : নারী ক্ষমতায়নের অভিযানে নতুন মাত্রা যোগ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ সংসদে গৃহীত হয়েছে। আগামী ২০২৯ সাল থেকে এই আইন দেশের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বাস্তবায়িত হবে। এই আইন দেশের শাসনব্যবস্থাকে প্রগতিশীল এবং আরও জনমুখী করে তুলবে, বলেছেন অসম প্ৰদেশ বিজেপির মুখপাত্র রঞ্জীবকুমার শর্মা।
আজ সোমবার ভারতীয় জনতা পার্টির প্রদেশ দফতর অটলবিহারী বাজপেয়ী ভবন থেকে প্রেরিত এক বিবৃতিতে প্ৰদেশ বিজেপির মুখপাত্র রঞ্জীবকুমার শর্মা বলেন, ২০২৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর লোকসভায় এই বিল পেশ করা হয় এবং সংবিধানের ১০৬-তম সংশোধনীর মাধ্যমে একে আইনে পরিণত করে ভারতীয় জনতা পার্টি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিরোধিতা ও ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে বিজেপির নেতৃত্ব এই আইনের মাধ্যমে নারী ক্ষমতায়নের অভিযানে নতুন মাত্রা যোগ করে দেশের সামাজিক জীবনে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের বীজ বপন করতে সক্ষম হয়েছে।
রঞ্জীব কুমার শর্মা আরও বলেন, এই আইনের মাধ্যমে দেশের মাতৃশক্তির রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে লোকসভা ও বিধানসভাগুলিতে মোট আসনের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে লোকসভায় মহিলা সাংসদের সংখ্যা বর্তমানের ৭৪ জন থেকে বেড়ে ২৭৩ জনে উন্নীত হবে।
উল্লেখ্য, বর্তমানে লোকসভায় মোট সাংসদের ১৫ শতাংশ এবং রাজ্যসভায় ১৩ শতাংশ মহিলা সাংসদ রয়েছেন। তবে ১৯৫২ সালের প্রথম লোকসভায় মহিলা সাংসদের সংখ্যা মাত্র ৪ শতাংশ ছিল। ভারতের সংসদীয় গণতন্ত্রের সর্বোচ্চ স্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি নারীশক্তির নেতৃত্বে দেশ পরিচালনার একটি রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই আইন বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, বলেনন রঞ্জীব কুমার শর্মা।
নারীশক্তির নেতৃত্বে দেশের উন্নয়নের অভিযানে এগিয়ে যাওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শুরু করা উদ্যোগকে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ অবশ্যই নতুন মাত্রা প্রদান করবে। এই আইন কেবল আইনি সংস্কারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি একটি সামাজিক রূপান্তর হিসেবেও চিহ্নিত হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন তিনি। তাই ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’-কে স্বাধীনোত্তর ভারতের অন্যতম বৃহৎ নীরব সামাজিক বিপ্লব হিসেবে বর্ণনা করে প্ৰদেশ বিজেপির মুখপাত্র রঞ্জীবকুমার শর্মা এটিকে আধুনিক ভারতীয় ইতিহাসের একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন।
এই আইনের মাধ্যমে ভারতীয় জনতা পার্টি দেশের নীতি নির্ধারণ এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্বের ক্ষেত্রে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত দেশের ৫০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর কণ্ঠকে শক্তিশালী করার এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্ৰদেশ বিজেপির মুখপাত্র শৰ্মার মতে, ‘নারী শক্তি বন্দন আইন’ দেশের মাতৃসমাজকে একটি শক্তিশালী ভিত্তিতে রূপান্তরিত করেছে। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে মহিলাদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব বৃদ্ধি পেলে শাসনব্যবস্থা আরও প্রগতিশীল ও শক্তিশালী হয়ে উঠবে বলে তিনি মনে করেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস