
গুয়াহাটি, ১৩ এপ্রিল (হি.স.) : কংগ্রেসের সর্বভারতীয় নেতা পবন খেড়াকে তেলেঙ্গানা হাইকোৰ্ট কর্তৃক প্রদত্ত এক সপ্তাহের অন্তর্বর্তী জামিনের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জনিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে অসম সরকার।
আজ সোমবার এক বিশেষ সূত্রের কাছে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, অসম সরকারের পক্ষ থেকে আইনজীবী শুভদীপ রায় গত ১০ এপ্রিল তেলেঙ্গানা হাইকোৰ্ট কর্তৃক প্রদত্ত জামিনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে গতকাল ১২ এপ্রিল এই আবেদন দায়ের করেছেন। চলতি সপ্তাহেই এই আবেদনের ওপর শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, অসমে দায়েরকৃত একটি মামলার অভিযুক্ত পবন খেড়া। মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মার স্ত্রী রিনিকি ভূঞা শর্মার একাধিক বিদেশি পাসপোর্ট রয়েছে বলে অসম বিধানসভা নিৰ্বাচনের চারদিন আগে গত ৫ এপ্রিল গুয়াহাটিতে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে গুরুতর অভিযোগ তুলেছিলেন কংগ্রেস নেতা পবন। ওই অভিযোগকে খণ্ডন করে গত ৬ এপ্রিল কংগ্রেস নেতা পবন খেড়ার বিরুদ্ধে আসাম পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন রিনিকি ভূঞা শর্মা।
রিনিকি ভূঞা শর্মার অভিযোগের ভিত্তিতে পবন খেড়ার বিরুদ্ধে গুয়াহাটিতে আসাম পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা-র বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। প্রযোজ্য ধারাগুলি যথাক্রমে ১৭৫ (নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত মিথ্যা বিবৃতি), ৩৫ (ব্যক্তি ও সম্পত্তির আত্মরক্ষার অধিকার) এবং ৩১৮ (প্রতারণা)। এই মামলার ভিত্তিতে গত ৭ এপ্ৰিল আসাম পুলিশের একটি দল দিল্লিতে পবন খেড়ার বাসভবনে গিয়েছিল। কিন্তু সেখানে তাঁকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে, হায়দরাবাদে বসবাসের কারণ দেখিয়ে পবন খেড়ার কৌঁসুলি অভিষেক মনু সিংভি ৮ এপ্রিল তেলেঙ্গানা হাইকোর্টে তাঁর মক্কেল (পবন খেড়া)-কে অগ্রিম জামিন প্রদানের আবেদন জানিয়ে এই মামলায় গ্রেফতারি থেকে সুরক্ষা চেয়েছিলেন।
১০ এপ্রিল তেলেঙ্গানা হাইকোৰ্টের বিচারপতি সুজানা কালাসিকামের আদালত পবন খেড়ার জামিন আবেদনের শুনানিকালে কিছু শৰ্ত বেঁধে দিয়ে এক সপ্তাহের অন্তর্বর্তী ট্রানজিট অগ্রিম জামিন মঞ্জুর করেছিল। এতে এক সপ্তাহের জন্য স্বস্তি পেয়েছিলেন পবন।
তেলেঙ্গানা উচ্চ আদালত জামিন মঞ্জুর করে নির্দেশ দিয়েছিল, পবন খেড়াকে গ্রেফতার করা হলে ব্যক্তিগত মুচলেকায় তাঁকে জামিনে মুক্তি দিতে হবে। তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে, প্রয়োজন অনুযায়ী জিজ্ঞাসাবাদের জন্য উপস্থিত থাকতে হবে, নির্দিষ্ট আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশ ছাড়তে পারবেন না ইত্যাদি।
শুনানিকালে বিচারপতি সুজানা কালাসিকাম মন্তব্য করেছিলেন, ‘আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন করার জন্য এক সপ্তাহ সময় দেওয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে এক সপ্তাহের জন্য তাঁকে এই স্বস্তি দেওয়া হলো।’
হাইকোর্ট পর্যবেক্ষণ করেছে, যুক্তিসংগতভাবে সমর্থিত অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতারের আশঙ্কা থাকায় আবেদনকারী সীমিত ট্রানজিট অগ্রিম জামিনের জন্য প্রাথমিক আবেদন করেছেন। আদালত আরও বলেছিল, মামলাটি যেহেতু অসমের অধিক্ষেত্রে, তাই সেখানে প্রয়োজনীয় আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ আবেদনকারীর জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি, খেড়ার জনসম্মুখে অবস্থান বিবেচনায় কিছু প্রকাশ্য মন্তব্য চলমান তদন্তকে প্রভাবিত করতে পারে বলেও বিচারপতি সুজানা কালাসিকামের আদালত মন্তব্য করেছিল।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস