প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে নতুন যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ হতে হবে: গান্ধীনগরে বার্তা রাষ্ট্রপতির
গান্ধীনগর, ১৪ এপ্রিল (হি.স.) : প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে পরিবর্তিত সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের দক্ষ করে তোলার জন্য যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানালেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। মঙ্গলবার গান্ধীনগরে অবস্থিত ‘রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যা
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু


গান্ধীনগর, ১৪ এপ্রিল (হি.স.) : প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রে পরিবর্তিত সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের দক্ষ করে তোলার জন্য যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানালেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। মঙ্গলবার গান্ধীনগরে অবস্থিত ‘রাষ্ট্রীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়’-এর সমাবর্তন অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি সতর্ক করে বলেন যে, আগামী দিনে নিরাপত্তার পরিমণ্ডল আরও জটিল হতে চলেছে। দুই দিনের গুজরাট সফরের শেষে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি বলেন, কয়েক বছর আগেও আমরা ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’, সাইবার অপরাধ বা ‘ফিশিং অ্যাটাক’-এর মতো শব্দগুলির সঙ্গে পরিচিত ছিলাম না। কিন্তু আজ এগুলি আমাদের সামনে বড় হুমকি হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের গুরুত্ব ও দায়িত্ব বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে।

এদিনের অনুষ্ঠানে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সাম্মানিক ‘ডক্টরেট’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। রাষ্ট্রপতি নিজে তাঁর হাতে এই সম্মান তুলে দেন এবং তাঁকে অভিনন্দন জানান। রাষ্ট্রপতি তাঁর ভাষণে জোর দিয়ে বলেন যে, দেশের প্রগতি ও উন্নয়নের জন্য অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা অপরিহার্য। তিনি বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে পৌঁছাতে গেলে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য দক্ষ পেশাদারের প্রয়োজন বাড়বে। বর্তমান সময়ে এবং ভবিষ্যতে এমন পুলিশ আধিকারিক দরকার যাঁরা সাইবার অপরাধীদের প্রযুক্তিগতভাবে মোকাবিলা করতে পারবেন। পাশাপাশি এমন ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন যাঁরা আদালতে গ্রহণযোগ্য অকাট্য প্রমাণ পেশ করতে সক্ষম হবেন। এমন সক্ষম পেশাদার প্রয়োজন যাঁরা ভূ-রাজনীতির সূক্ষ্ম বিষয়গুলি বুঝতে পারবেন এবং বিশ্বমঞ্চে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভারতের কথা তুলে ধরবেন।

রাষ্ট্রপতি স্নাতক ও গবেষক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন যে, তাঁরা এমন এক সময়ে পেশাগত জীবনে পা রাখছেন যখন জাতীয় নিরাপত্তার ধারণা আমূল বদলে গিয়েছে। আগে নিরাপত্তা মানে কেবল ভূখণ্ড বা সৈন্যবাহিনীর বিষয় ছিল, কিন্তু এখন প্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা, ডেটা সুরক্ষা, উপকূলীয় নিরাপত্তা এবং কূটনীতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের ‘আত্মনির্ভর ভারত’ ও স্বদেশি প্রযুক্তির প্রসারের প্রশংসা করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের শক্তি ও নিরাপত্তা কেবল সুরক্ষা বাহিনীর সাহস ও পরাক্রমের ওপরই নির্ভর করে না, এটি অস্ত্রের গুণমান এবং প্রযুক্তিতে স্বনির্ভরতার ওপরও সমানভাবে নির্ভরশীল। বর্তমান সরকার নিরন্তর এই দিশায় কাজ করে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলেছে। অনুষ্ঠানে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও কৃতি শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande