( রাউন্ড আপ) ‘বাংলা নববর্ষে দিদিকে টাটা বাই বাই বলার সময় এসেছে’, উত্তরবঙ্গের সভা থেকে হুঙ্কার অমিত শাহের
মালদা ও দক্ষিণ দিনাজপুর, ১৪ এপ্রিল (হি.স.): বৈশাখী ও চৈত্র সংক্রান্তির আবহে মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ ও মালদায় নির্বাচনী ঝটিকা সফর করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গঙ্গারামপুর ও মানিকচকের জনসভা থেকে একদিকে যেমন তিনি অনুপ্রবেশ ও দুর্নীতি ইস্যুতে
( রাউন্ড আপ) ‘বাংলা নববর্ষে দিদিকে টাটা বাই বাই বলার সময় এসেছে’, উত্তরবঙ্গের সভা থেকে হুঙ্কার অমিত শাহের


মালদা ও দক্ষিণ দিনাজপুর, ১৪ এপ্রিল (হি.স.): বৈশাখী ও চৈত্র সংক্রান্তির আবহে মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ ও মালদায় নির্বাচনী ঝটিকা সফর করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গঙ্গারামপুর ও মানিকচকের জনসভা থেকে একদিকে যেমন তিনি অনুপ্রবেশ ও দুর্নীতি ইস্যুতে তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানালেন, তেমনই অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের মানুষের জন্য একগুচ্ছ উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেন।

গঙ্গারামপুর ও মানিকচকের দুটি সভা থেকেই শাহের আক্রমণের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল অনুপ্রবেশ সমস্যা। তিনি অভিযোগ করেন, “মমতা দিদি বিএসএফ-কে কাঁটাতার লাগানোর জন্য ৬০০ একর জমি দিচ্ছেন না। এই অনুপ্রবেশকারীরা বাংলার যুবকদের কর্মসংস্থান কেড়ে নিচ্ছে এবং গরিবের চালে ভাগ বসাচ্ছে।” শাহ সাফ জানান, ৫ মে বাংলায় বিজেপি সরকার গঠনের ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্তে কাঁটাতারের জন্য প্রয়োজনীয় জমি দিয়ে দেওয়া হবে এবং সীমান্ত সম্পূর্ণ সিল করে দেওয়া হবে। তাঁর কথায়, “গোটা ভারতকে অনুপ্রবেশমুক্ত করতে হবে।”

উত্তর দিনাজপুরের জনৈক নেতার বিতর্কিত মন্তব্যের প্রেক্ষিতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “হুমায়ুন কবীর আসলে দিদির এজেন্ট। তিনি ও মমতা দিদি মিলে এখানে বাবরি মসজিদ বানাতে চাইছেন। কিন্তু দিদি কান খুলে শুনে রাখুন, বাংলায় বিজেপি সরকার আসছে, এখানে কোনোভাবেই বাবরি মসজিদ তৈরি হতে দেওয়া হবে না।” এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র মেরুকরণের বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

মালদার মানিকচকে আম চাষিদের সমস্যার কথা তুলে ধরে শাহ বলেন, এখানকার বিখ্যাত আম সংরক্ষণের জন্য গত এক দশকে কোনও হিমঘর বা কোল্ড স্টোরেজ তৈরি করেনি তৃণমূল সরকার। তিনি আশ্বাস দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে প্রতিটি মণ্ডলে একটি করে হিমঘর তৈরি করা হবে। এর পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের জন্য ‘এইমস’ , আইআইটি এবং পৃথক ক্যানসার হাসপাতাল তৈরির প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

পাহাড়ের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের ‘বঙ্গভঙ্গ’ বিতর্কে জল ঢেলে এদিন শাহ বড় ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গকে না ভেঙেই গোর্খা সমস্যার একটি স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য সাংবিধানিক সমাধান করা হবে। কেন্দ্র এই বিষয়ে দায়বদ্ধ।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাহাড়ের ভাবাবেগ রক্ষা এবং সমতলের মানুষের মন জয় করতেই শাহ এই কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন।

মঙ্গলবার শাহের এই হাই-ভোল্টেজ প্রচার এবং একাধিক বড় ঘোষণা বাংলায় নির্বাচনের শেষ দফার লড়াইকে আরও উত্তপ্ত করে তুলল। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, “কাল পয়লা বৈশাখ। নতুন বছরে বাংলায় দুর্নীতিমুক্ত ও অনুপ্রবেশমুক্ত সরকার গড়ার শপথ নিন দেশবাসী।”

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande