
আরামবাগ, ১৩ এপ্রিল (হি.স.): হুগলির গোঘাটে গাজনের আবহে সন্ন্যাসীদের মিলন উৎসব। চৈত্র সংক্রান্তির এই বিশেষ লগ্নে শিবভক্তদের তপস্যা, ব্রত ও নানা আচার অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এক অনন্য পরিবেশ তৈরি হয়। সেই আবহেই হুগলির গোঘাটের কাটালি এলাকায় অনুষ্ঠিত হয় সন্ন্যাসীদের মিলন উৎসব, যা স্থানীয়ভাবে বহু প্রাচীন এক ঐতিহ্য হিসেবে পরিচিত। প্রতিবছরের মতো এ বছরও চারিদিকের বিভিন্ন এলাকা থেকে সন্ন্যাসীরা কাটালিতে একত্রিত হন। ঢাকের বাদ্যি, শঙ্খধ্বনি এবং ভক্তদের ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। শিবের আরাধনায় ব্রতী সন্ন্যাসীরা কঠোর অনুশাসনের মধ্য দিয়ে এই উৎসবে অংশগ্রহণ করেন, যা দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।
এই মিলন উৎসবের বিশেষত্ব হল এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব। কথিত আছে, কয়েক শতাব্দী ধরে এই প্রথা চলে আসছে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা আরও সমৃদ্ধ হয়েছে। বিশেষ করে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-এর সঙ্গে যুক্ত শৈলেশ্বরের সন্ন্যাসী এবং গোপেশ্বরের সন্ন্যাসীদের উপস্থিতি এই উৎসবকে এক আলাদা মাত্রা দেয়। তাঁদের আগমন শুধু ধর্মীয় নয়, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই মিলন উৎসব শুধু একটি ধর্মীয় আচার নয়, বরং গ্রামীণ সমাজের ঐক্য ও সংস্কৃতির প্রতীক। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এই উৎসব দেখতে আসেন এবং গাজনকে স্মরণীয় করে তোলেন। সব মিলিয়ে, গাজনের এই দিনে গোঘাটের কাটালি এলাকা যেন হয়ে ওঠে ভক্তি, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির এক মিলনক্ষেত্র, যা আগামী প্রজন্মের কাছেও সমানভাবে আকর্ষণীয় হয়ে থাকবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / SANTOSH SANTRA