
চুড়াইবাড়ি (ত্রিপুরা), ১৩ এপ্রিল (হি.স.) : উত্তর ত্রিপুরার কদমতলা ব্লকের বাঘন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার গৃহবধূকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। গুরুতর আহত অবস্থায় রেজানা খাতুনের পাশে দাঁড়িয়ে ন্যায়বিচারের দাবিতে সরব হল টিআরএমএল-এর তিনটি শাখার মহিলা কর্মীরা।
সোমবার দুপুরে সংগঠনের সদস্যরা নির্যাতিতা রেজানা খাতুনকে সঙ্গে নিয়ে চুড়াইবাড়ি থানায় উপস্থিত হন। সেখানে অভিযুক্ত স্বামী আব্দুর রহিমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগপত্রে জানানো হয়েছে, ঘটনার পর সংগঠনের সদস্যরা রেজানার পাশে দাঁড়ালে অভিযুক্ত তাঁদেরকেও হুমকি দেয়। শুধু স্ত্রী নয়, নিজের মা এবং পুত্র সন্তানকেও মারধরের অভিযোগ উঠেছে আব্দুর রহিমের বিরুদ্ধে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত মা ও ছেলে থানায় এসে একই বয়ান দেওয়ায় অভিযোগ আরও জোরদার হয়েছে।
টিআরএমএল-এর জেন্ডার সাপোর্ট কর্মীদের দাবি, রবিবার সকালে রেজানা খাতুন ফোন করে নির্যাতনের কথা জানালে তাঁরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশকে অবহিত করেন। তাঁদের অভিযোগ, আব্দুর রহিম দীর্ঘদিন ধরে স্ত্রীর উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগও রয়েছে। সংগঠনের মতে, এ ধরনের অপরাধের কঠোরতম শাস্তি হওয়া জরুরি, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।
ঘটনার পর গুরুতর আহত অবস্থায় রেজানা খাতুনকে প্রথমে কদমতলা সামাজিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ধর্মনগর জেলা হাসপাতালে রেফার করা হয়। তবে চিকিৎসকেরা তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজ্যের বাইরে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। আর্থিক অসামর্থ্যের কারণে তা সম্ভব না হওয়ায়, নির্যাতিতা নিজেই সংগঠনের কর্মীদের সঙ্গে থানায় এসে মামলা দায়ের করেন।
উল্লেখ্য, চুড়াইবাড়ি থানাধীন জুমটিলা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত আব্দুর রহিম দীর্ঘদিন ধরে নেশাসক্ত এবং তাঁর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করায় রেজানা খাতুনকে প্রায়ই নির্যাতনের শিকার হতে হয়। রবিবার সকালে নির্যাতন চরমে পৌঁছায়, অভিযুক্ত তাঁকে বেধড়ক মারধর করে এবং লোহার শিকল দিয়ে আঘাত করে বলে অভিযোগ।
এদিকে অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই আব্দুর রহিমকে গ্রেফতার করেছে। চুড়াইবাড়ি থানার অফিসার-ইন-চার্জ দেবব্রত বিশ্বাস জানিয়েছেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ