
উদয়পুর (ত্রিপুরা), ১৩ এপ্রিল (হি.স.) : সোমবার হাঁড়ি বিষু উপলক্ষ্যে গোমতী জেলার উদয়পুর মহকুমার কিল্লা পিত্রাকামি এলাকায় জমাতিয়া হদা সম্প্রদায়ের উদ্যোগে শুরু হল ঐতিহ্যবাহী বাবা গড়িয়া মহাপূজা ও মহোৎসব। প্রতিবছরের মত এবছরও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই মহাপূজার শুভ সূচনা হয়। সাতদিনব্যাপী এই পুজো ও উৎসবকে ঘিরে ইতিমধ্যেই এলাকাজুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে।
সোমবার সকাল থেকেই পিত্রাকামি এলাকায় ভক্তদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। দূর-দূরান্ত থেকে আগত ভক্তরা এই পুজোয় অংশগ্রহণ করতে উপস্থিত হন। ঢাক-ঢোল, কড়তাল ও ধর্মীয় সঙ্গীতের সুরে গোটা এলাকা ভক্তিময় পরিবেশে মুখরিত হয়ে ওঠে। পুজোর শুরুতেই পূজারীরা ঐতিহ্যবাহী নিয়ম মেনে বাবা গড়িয়ার আরাধনা করেন এবং সমাজের শান্তি, সমৃদ্ধি ও মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
এই পুজো শুধু ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি জমাতিয়া সম্প্রদায়ের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল শ্রেণির মানুষ এতে অংশগ্রহণ করেন, যা এক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলার রূপ ধারণ করে।
এই প্রসঙ্গে জমাতিয়া হদা অকরা মণিন্দ্র মোহন জমাতিয়া জানান, “হাঁড়ি বিষু আমাদের সম্প্রদায়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। প্রতি বছর দেশ ও সমাজের কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধির কামনায় এই মহাপূজার আয়োজন করা হয়। এবছরও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে মহাসমারোহে পুজো অনুষ্ঠিত হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, সাত দিনব্যাপী এই উৎসব চলাকালীন বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মসূচিরও আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় নৃত্য, সংগীতসহ নানা অনুষ্ঠান উৎসবের আকর্ষণ বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বাবা গড়িয়া মহাপূজা জমাতিয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব হিসেবে পরিচিত। এই পুজোর মাধ্যমে সমাজে ঐক্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় হয় বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
সামগ্রিকভাবে, হাঁড়ি বিষু উপলক্ষ্যে কিল্লা পিত্রাকামিতে শুরু হওয়া এই মহাপূজা ও মহোৎসবকে ঘিরে এলাকাজুড়ে আনন্দঘন, উৎসবমুখর ও ভক্তিময় পরিবেশ বিরাজ করছে। আগামী কয়েকদিন এই উৎসবকে কেন্দ্র করে জনসমাগম আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ