
ঝাড়গ্রাম, ১৩ এপ্রিল (হি. স.) : সোমবার গোপীবল্লভপুরের বালিভাসায় বিজেপি প্রার্থী রাজেশ মাহাতোর সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় কার্যত ‘ফিল্মি উপস্থিতি’ দেখিয়েই ফিরে গেলেন চলচ্চিত্র জগতের মহাগুরু মিঠুন চক্রবর্তী। তারকা গ্ল্যামার নিয়ে এদিন সভায় এলেও মাত্র পাঁচ মিনিটের সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রেখেই তিনি প্রস্থান করেন। তাঁর চেনা সংলাপ আর পুরনো প্রতিশ্রুতির পুনরাবৃত্তি সব মিলিয়ে সভার রাজনৈতিক গুরুত্বকে ছাপিয়ে গেল তারকা কেন্দ্রিকতা।
এদিন রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা দ্বিগুণ করার সেই পরিচিত প্রতিশ্রুতিই শোনা গেল তাঁর গলায়। সভায় উপস্থিত মানুষের একটি বড় অংশই এসেছিলেন প্রিয় অভিনেতাকে একঝলক দেখার আশায়। ফলে মিঠুন বক্তব্য শেষ করে চলে যেতেই মাঠের ভিড় পাতলা হতে শুরু করে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, আয়োজকদের বারবার মাইক হাতে ঘোষণা করতে হয়, “সভা এখনও চলছে।” এই ঘটনাটি একটি বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—তবে কি রাজনৈতিক বার্তার চেয়ে কেবল ‘স্টার ভ্যালু’র ওপর ভরসা করেই বৈতরণী পার হতে চাইছে বিজেপি?
বক্তৃতায় তিনি বাংলার ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কার ছবি তুলে ধরেন এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিভিন্ন আর্থিক প্রতিশ্রুতির কথা পুনরায় শোনান। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, এই প্রতিশ্রুতিগুলি নতুন কিছু নয়। বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা না থাকায় সাধারণ মানুষের কাছে এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সংশয় রয়েই যাচ্ছে। এমনকি বিরোধীদের আক্রমণ করতে গিয়ে তিনি খাদ্যাভ্যাসের প্রসঙ্গ টানলেও সেখানেও ছিল নাটকীয়তার ছাপ।
সমালোচকদের মতে, ঝাড়গ্রামের মূল ইস্যু যেমন কর্মসংস্থান, স্থানীয় উন্নয়ন বা আদিবাসী এলাকার বাস্তব সমস্যা—সেগুলির কোনও সুস্পষ্ট দিশা এই সভায় উঠে আসেনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, তারকা-নির্ভর প্রচার ভিড় টানতে পারলেও ভোটের বাক্সে তার প্রভাব কতটা পড়বে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো