
উদয়পুর (ত্রিপুরা), ১৩ এপ্রিল (হি.স.) : সোমবার ভোরে গোমতী জেলার উদয়পুরের চন্দ্রপুর বেলতলি এলাকায় ঘটল নৃশংস জোড়া খুনের ঘটনা, যা মুহূর্তে স্তব্ধ করে দিয়েছে গোটা অঞ্চলকে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বটতলি স্কুলের বিজ্ঞান শিক্ষক অজিত দাস স্ত্রী রুপা দাস এবং ছেলে দিগন্ত দাসকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎ চিৎকার শুনে তাঁরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তবে সেখানে পৌঁছানোর আগেই সবকিছু শেষ হয়ে যায়—রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় মা ও ছেলের নিথর দেহ।
পরিবারের সদস্য নারায়ণ চন্দ্র দাস জানিয়েছেন, গত কয়েকদিন ধরেই অজিত দাস মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন এবং তাঁর আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। ঘটনার পর তিনি নিজেও বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে গোমতী জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অজিত দাসের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক এবং তিনি বর্তমানে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে রাধা কিশোরপুর থানার ওসি সঞ্জীব লস্কর সহ মহকুমা পুলিশ আধিকারিক এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
কী কারণে একজন শিক্ষক এমন নৃশংস পদক্ষেপ নিলেন, তার পেছনের প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করতে তদন্তকারীরা বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছেন। প্রাথমিকভাবে মানসিক অস্থিরতাকেই ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে মনে করা হলেও, অন্য কোনও কারণ জড়িত আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর উদয়পুর জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। আতঙ্ক, অবিশ্বাস ও দুঃখে স্তব্ধ চন্দ্রপুর বেলতলি এলাকার মানুষ। এক পরিবারের এমন করুণ পরিণতি নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা মন্দির নগরীকে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ