(রাউন্ড আপ ) সংবিধান ধ্বংসের চেষ্টা চলছে, বিজেপি-তৃণমূলকে একসঙ্গে নিশানা রাহুলের
উত্তর দিনাজপুর/মালদা/মুর্শিদাবাদ, ১৪ এপ্রিল (হি.স.) : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যে জোরদার প্রচারে নেমে একাধিক জনসভা থেকে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস—উভয় দলকেই তীব্র আক্রমণ শানালেন কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধ
(রাউন্ড আপ ) সংবিধান ধ্বংসের চেষ্টা চলছে, বিজেপি-তৃণমূলকে একসঙ্গে নিশানা রাহুলের


উত্তর দিনাজপুর/মালদা/মুর্শিদাবাদ, ১৪ এপ্রিল (হি.স.) : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যে জোরদার প্রচারে নেমে একাধিক জনসভা থেকে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস—উভয় দলকেই তীব্র আক্রমণ শানালেন কংগ্রেস সাংসদ তথা লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী । সংবিধান রক্ষার প্রশ্ন তুলে বিজেপিকে নিশানা করার পাশাপাশি রাজ্যে বিজেপির উত্থানের জন্য তৃণমূলকেও কাঠগড়ায় তোলেন তিনি।

মঙ্গলবার উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের জনসভা থেকে রাহুল গান্ধী বলেন, “দেশে কী চলছে, তা আপনারা ভালই বোঝেন। বিজেপির ঘৃণা ছড়ানোর চিন্তাধারা সংবিধানকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে।” তিনি আরও বলেন, “সরাসরি সামনে এসে সংবিধানকে আক্রমণ করতে পারে না। কিন্তু যখনই সুযোগ পায় সংবিধানের উপর আক্রমণ করে। প্রতিষ্ঠানগুলিতে নিজেদের লোককে বসায়। ভোট চুরি করে। গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার চেষ্টা করে।”

রাহুলের বক্তব্যে উঠে আসে তাঁর ‘ভারত জোড়ো যাত্রা’র প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, “দেশে আমাদের লড়াই বিজেপির ঘৃণাভরা চিন্তাধারার বিরুদ্ধে। ভারত জোড়ো যাত্রায় আমি ৪ হাজার কিলোমিটার হেঁটেছি। আমি একটাই কথা বলেছি, ঘৃণার বাজারে ভালবাসার দোকান খুলতে হবে। এই দেশ ঘৃণা শেখায় না। ভালবাসতে শেখায়। আমি দেশকে একটাই বার্তা দিয়েছি, ঘৃণা, হিংসা, ভাগাভাগি দিয়ে কিচ্ছু হয় না। ভালবাসা এবং একতা দিয়েই দেশের প্রগতি হয়।”

রায়গঞ্জের সভা থেকেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী -কে একসঙ্গে নিশানা করে রাহুল গান্ধী দাবি করেন, বাংলায় বিজেপির উত্থানের জন্য তৃণমূলই দায়ী। তাঁর অভিযোগ, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে সুবিধা করে দেওয়ার কাজ করছে তৃণমূল। তারাই বিজেপির জন্য জমি ও রাস্তা তৈরি করে দিচ্ছে।” তিনি বলেন, তৃণমূল যদি সঠিকভাবে শাসন চালাত এবং হিংসার পরিবেশ তৈরি না হত, তবে বিজেপি এতটা শক্তিশালী হতে পারত না।

শুধু রাজনৈতিক আক্রমণ নয়, দুর্নীতির প্রশ্নেও তৃণমূলকে কটাক্ষ করেন রাহুল। তাঁর কথায়, “নরেন্দ্র মোদী যদি দুর্নীতিতে লিপ্ত থাকেন, তবে তৃণমূলও সেই দৌড়ে পিছিয়ে নেই।” পাশাপাশি সারদা ও রোজভ্যালি কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ টেনে তিনি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন এবং বলেন, এই ঘটনাগুলি বাংলার ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

এদিন মুর্শিদাবাদের শামসেরগঞ্জের সভাতেও কেন্দ্র ও রাজ্য—দুই সরকারকেই আক্রমণ করেন রাহুল গান্ধী। সংবিধান প্রণেতা বি আর আম্বেদকরের জন্মজয়ন্তীতে তাঁর ছবিতে মাল্যদান করে সভা শুরু করে তিনি বলেন, বিজেপি সংবিধান বিরোধী এবং বিভিন্নভাবে সংবিধানের ক্ষমতা খর্ব করার চেষ্টা করছে। বিচারব্যবস্থা থেকে ভোটাধিকার—সব ক্ষেত্রেই হস্তক্ষেপের অভিযোগ তোলেন তিনি।

রাহুল বলেন, “আগামী দিনে আমেরিকার কৃষক ফসল ফলিয়ে ভারতে বিক্রি করবে, এ দেশের কৃষক মারা যাবে। আমেরিকার কাছে দেশ বিক্রি করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।” পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, রাজ্যে সারদা ও রোজভ্যালি চিট ফান্ড কেলেঙ্কারিতে কয়েক হাজার কোটি টাকা লুট হয়েছে। তাঁর দাবি, বাংলায় তৃণমূলের ‘সিন্ডিকেট রাজ’ চলছে এবং সাধারণ মানুষ দুর্নীতি ও হিংসার শিকার।

বেকারত্বের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ৮৪ লক্ষ যুবক বেকার ভাতার জন্য আবেদন করেছেন। ২০২১ সালে পাঁচ লক্ষ চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা পূরণ হয়নি এবং চাকরিতে দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে কংগ্রেসের তরফে একাধিক প্রতিশ্রুতিও দেন রাহুল গান্ধী। তিনি জানান, কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে বিনামূল্যে ক্যানসার চিকিৎসা, জেলা হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা, স্নাতক স্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা, কৃষকদের বছরে ১৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা এবং ১০ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্য বিমা দেওয়া হবে। পাশাপাশি মহিলাদের প্রতি মাসে ২০০০ টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

অন্যদিকে, মালদার চাঁচলে তাঁর জনসভাকে ঘিরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। সভাস্থলে বিপুল জনসমাগমের জেরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হয় আয়োজক ও প্রশাসনকে। মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসনে পুরুষদের ঢুকে পড়ায় নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ ওঠে। ভিড়ের চাপে বহু মহিলা সভাস্থল ছেড়ে বেরিয়ে যান। পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালায়।

প্রথম দফার ভোটের আগে একাধিক জনসভা থেকে রাহুল গান্ধীর এই আক্রমণাত্মক প্রচার স্পষ্ট করে দিচ্ছে, বাংলায় বিজেপি ও তৃণমূল—উভয়ের বিরুদ্ধেই সমদূরত্ব বজায় রেখে রাজনৈতিক জমি পুনর্দখলে মরিয়া কংগ্রেস।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande