উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ প্রাঙ্গণে আম্বেদকর জন্মজয়ন্তী পালিত, সমতা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের আহ্বান
আগরতলা, ১৪ এপ্রিল (হি.স.) : যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে মঙ্গলবার আগরতলায় ঐতিহাসিক উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ প্রাঙ্গণে দেশের সংবিধান প্রণেতা ভারতরত্ন ড. বিআর আম্বেদকরের জন্মজয়ন্তী উদযাপন করা হয়। তপশিলি জাতি কল্যাণ দফতরের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান
আম্বেদকর জন্মজয়ন্তী পালিত


আগরতলা, ১৪ এপ্রিল (হি.স.) : যথাযোগ্য মর্যাদা ও গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে মঙ্গলবার আগরতলায় ঐতিহাসিক উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ প্রাঙ্গণে দেশের সংবিধান প্রণেতা ভারতরত্ন ড. বিআর আম্বেদকরের জন্মজয়ন্তী উদযাপন করা হয়। তপশিলি জাতি কল্যাণ দফতরের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন স্তরের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিল্পী, সাহিত্যিক, ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ মানুষ।

অনুষ্ঠানের সূচনায় ড. আম্বেদকরের মূর্তিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান তপশিলি জাতি কল্যাণ মন্ত্রী সুধাংশু দাস, উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী কিশোর বর্মণ, বিধায়ক মিনারানি সরকার, পশ্চিম ত্রিপুরা জিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল, আগরতলা পুর নিগমের কর্পোরেটরবৃন্দ এবং তপশিলি জাতি কল্যাণ দফতরের অধিকর্তা জয়ন্ত দে সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

প্রধান অতিথির ভাষণে মন্ত্রী সুধাংশু দাস বলেন, ড. আম্বেদকর ছিলেন একাধারে দার্শনিক, রাজনীতিবিদ ও সমাজ সংস্কারক। তিনি স্বাধীন ভারতের প্রথম আইনমন্ত্রী হিসেবে দেশের সংবিধান প্রণয়নে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে রচিত সংবিধান বিশ্বের বৃহত্তম লিখিত সংবিধান হিসেবে স্বীকৃত। তিনি এমন এক ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন, যেখানে দারিদ্র, অস্পৃশ্যতা, অশিক্ষা, কুসংস্কার ও নিপীড়নের কোনও স্থান থাকবে না এবং সকল নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবে।

তিনি আরও বলেন, ড. আম্বেদকরের জীবন সংগ্রাম বর্তমান প্রজন্মের কাছে এক অনন্য শিক্ষার উৎস। সমাজের পিছিয়ে পড়া ও বঞ্চিত মানুষের উন্নয়নে তিনি সারাজীবন নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। তাই নতুন প্রজন্মকে তাঁর চিন্তাধারা ও আদর্শ অনুসরণ করে একটি সমতা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে হবে। রাজ্যের উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, কারণ শিক্ষাই উন্নয়নের প্রধান চাবিকাঠি। তপশিলি জাতি কল্যাণ দফতরের পক্ষ থেকে মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহ দিতে বিভিন্ন মেধা পুরস্কার চালু করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

অনুষ্ঠানে উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী কিশোর বর্মণ বলেন, ড. আম্বেদকর কেবল সংবিধানের স্থপতি নন, তিনি একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের অগ্রদূত। সংবিধানের মাধ্যমে তিনি মৌলিক অধিকার, নাগরিক কর্তব্য এবং সংরক্ষণ ব্যবস্থার সুদৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করেছেন। নারী শিক্ষা ও নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রেও তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।

তিনি বলেন, ড. আম্বেদকরের জীবনমন্ত্র ছিল— “শিক্ষিত হও, সংগঠিত হও এবং সংগ্রাম করো।” তিনি শিক্ষাকে সমাজ পরিবর্তনের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করতেন। বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্যের বার্তা দিয়েই তিনি সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতির ভাষণে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাধিপতি বিশ্বজিৎ শীল বর্তমান প্রজন্মকে ড. আম্বেদকরের জীবনী, আদর্শ ও চিন্তাধারা গভীরভাবে অধ্যয়ন করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠান শুরুর আগে রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবন প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়, যা শহরের প্রধান সড়ক পরিক্রমা শেষে উজ্জয়ন্ত প্রাসাদ প্রাঙ্গণে এসে সমাপ্ত হয়। সাংস্কৃতিক পর্বে শচীন দেববর্মণ স্মৃতি সংগীত মহাবিদ্যালয়ের শিল্পীরা দেশাত্মবোধক সংগীত পরিবেশন করে অনুষ্ঠানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande