
কুমারঘাট (ত্রিপুরা), ১৪ এপ্রিল (হি.স.) : চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষয়ে ত্রিপুরার বিভিন্ন প্রান্তের মত ঊনকোটি জেলার ফটিকরায়ের রাজেন্দ্রনগর গ্রামেও পালিত হল ঐতিহ্যবাহী চড়ক পূজা ও মেলা। অর্ধশতাব্দীরও বেশি পুরনো এই পূজাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকাল থেকেই গ্রামজুড়ে উৎসবের আবহ ছড়িয়ে পড়ে। ভক্ত ও দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়ে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৫২ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে এই চড়ক পূজা। প্রাচীন লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, ভগবান মহাদেব ও দেবী পার্বতীর আরাধনাকে কেন্দ্র করেই এই পূজার সূচনা। সেই ঐতিহ্য বজায় রেখে আজও নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে পালিত হয় এই পূজা। পূজার অন্যতম আকর্ষণ ছিল বরশি গাঁথা, দেব-দেবীর নৃত্য এবং চড়ক গাছ ঘোরানোর প্রথাগত আয়োজন, যা দেখতে ভিড় জমান অসংখ্য মানুষ।
চড়ক পূজার ওস্তাদ শুধুরঞ্জন মালাকার জানান, “দীর্ঘ ৫২ বছর ধরে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। প্রতি বছরই ভক্তদের সংখ্যা বাড়ছে। আমরা চেষ্টা করি পুরনো রীতি-নীতি বজায় রেখে পূজাকে আরও সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে।” তিনি জানান, প্রতি বছর প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষের সমাগম ঘটে এই উৎসবে।
পূজাকে ঘিরে বসেছে মেলা। সারি সারি দোকানে বিক্রি হচ্ছে খেলনা, মিষ্টি, গৃহস্থালির নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্য। মেলার পরিবেশে ফুটে উঠেছে গ্রামীণ জনজীবনের এক প্রাণবন্ত চিত্র। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি ফটিকরায়, গোকুলনগর, মশাউলি সহ দূর-দূরান্তের এলাকা থেকেও বহু মানুষ ভিড় জমান এই মেলায়।
মেলায় আসা নিখিল মালাকার বলেন, “প্রতি বছরই এই মেলার জন্য আমরা অপেক্ষা করি। শুরু থেকেই খুব জমজমাট পরিবেশ থাকে। পরিবার নিয়ে এখানে এসে খুব ভালো লাগে।”
সময়ের সঙ্গে সমাজব্যবস্থায় পরিবর্তন এলেও গ্রামবাংলার বুকে চড়ক পূজার মতো প্রাচীন লোকঐতিহ্য আজও অমলিন। চৈত্র সংক্রান্তির এই বিশেষ দিনে চড়ক মেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয় মিলনমেলা, যা শুধু ধর্মীয় আচারেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানুষের মধ্যে সামাজিক বন্ধনকেও আরও দৃঢ় করে তোলে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ