
গোসাবা, ১৬ এপ্রিল ( হি. স.) : মাত্র সপ্তাহ খানেক আগেই জেলা পরিষদের উপাধ্যক্ষ অনিমেষ মণ্ডল এবং পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তাপস মণ্ডলসহ ব্লক তৃণমূলের বহু নেতা বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী সুব্রত মণ্ডলের বিরোধী গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত এই নেতারা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর হাত থেকে বিজেপির পতাকা তুলে নেন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বৃহস্পতিবার ফের বড়সড় ভাঙন ধরল শাসক শিবিরে। এদিন বিপ্রদাসপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান অসীম মাহাতোসহ বিভিন্ন অঞ্চলের সভাপতি, বুথ সভাপতি এবং প্রায় ৫০টি পরিবার তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে গোসাবার বিপ্রদাসপুরে আয়োজিত বিজেপির একটি নির্বাচনী জনসভায় প্রার্থী বিকর্ণ নস্কর এবং জেলা ও রাজ্য নেতৃত্বের হাত থেকে বিজেপির পতাকা গ্রহণ করেন এই কর্মীরা।
বিপ্রদাসপুর ও পাঠানখালি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা থেকে আসা এই পরিবারগুলির দাবি, গত পাঁচ বছরে বিধায়ক এলাকায় আসেননি এবং কোনও উন্নয়নমূলক কাজও করেননি। এ বিষয়ে মুখ খুলতে গেলে তাঁদের রাজনৈতিক হুমকির মুখে পড়তে হতো এবং তাঁদের গায়ে বিজেপির তকমা সেঁটে দেওয়া হতো বলে অভিযোগ। এই প্রসঙ্গে অসীম মাহাতো বলেন, দলে থাকলেও আমাদের কোনও গুরুত্ব ছিল না। এলাকায় কোনও উন্নয়ন হয়নি অথচ কিছু বলার উপায় ছিল না। একরকম দম বন্ধ হয়ে আসছিল, তাই তৃণমূল ছাড়লাম।
ভোটের মুখে এই ভাঙন গোসাবা বিধানসভা এলাকায় তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যদিও এই দলবদলকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল শিবির। তৃণমূল প্রার্থী সুব্রত মণ্ডল বলেন, এরা আগে থেকেই বিজেপির হয়ে কাজ করছিল। গত লোকসভা ভোটেও এরা দলের সাথে গদ্দারি করেছে। তাছাড়া গত কয়েকদিনে বহু পুরনো বিজেপি কর্মী আমাদের দলে যোগ দিয়েছেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / পার্সতি সাহা