
কলকাতা, ১৬ এপ্রিল, (হি.স.): “উত্তর কলকাতার ঐতিহ্যপূর্ণ 'মন্মথ কেবিন’ দখলে শ্যামপুকুর থানার অফিসার পরিতোষ ভাদুরি আর অজয় সাহা জড়িত। ওটা ২০ কোটির সম্পত্তি”। এই অভিযোগ 'ক্যালকাটা হাউস ওনার্স অ্যাসেসিয়েশন’-এর অভিযোগ, আপ্রাণ চেষ্টা করেও গৃহমালিকদের স্বার্থ রক্ষা করা যাচ্ছে না। এরকম একগুচ্ছ অভিযোগের জেরে তাঁরা আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ‘নোটা’ বা ‘নান অব দ্য অ্যাবাভ’-এ ভোট দেওয়ার ডাক দিচ্ছেন।
কলকাতায় সম্পত্তি জবরদখল নিয়ে ক্ষোভ চরমে উঠেছে বাড়িওয়ালাদের একাংশের মধ্যে। ঐতিহ্যপূর্ণ উল্লেখিত রেস্তোঁরা দখলে রাজনৈতিক দাদারাও জড়িত। এ রকম নানা পরিস্থিতিতে গৃহমালিকদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গিয়েছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার রক্ষিত জানান, কলকাতায় তাদের প্রায় ৫ হাজারেরও বেশি সদস্য রয়েছেন। তাঁদের তো বটেই বাকিদেরও ভোটে নোটা-তে অনাস্থা প্রকাশের আবেদন করব।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভই প্রধান কারণ বলে দাবি সংগঠনের। তাঁদের অভিযোগ, রাজ্যজুড়ে বহু জায়গায় বাড়ি ও সম্পত্তি জবরদখলের ঘটনা ঘটছে। বিধবা অথবা বয়স্কদের সম্পত্তিও দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। কোথাও আবার পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
সুকুমারবাবুর কথায়, বাড়িওয়ালাদের কাছ থেকে অযথা, বাড়তি কর নেওয়া হচ্ছে। হাওড়া ব্রিজের কর নিচ্ছে পুরসভা। রেন্ট কন্ট্রোলে ৪০০ কোটি বকেয়া রয়েছে কলকাতার বাড়িওয়ালাদের। হাজার চেষ্টা করেও আমরা সেই প্রাপ্য পাচ্ছি না। বাম আমলের অশুভ দৃষ্টিভঙ্গী একইভাবে রয়ে গেছে তৃণমূল শাসকদের মধ্যে। কোনও রাজনৈতিক দল আমাদের পক্ষে নেই।'
সংগঠনের দাবি, কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি বেআইনিভাবে দখল হয়ে যাচ্ছে, অথচ প্রকৃত মালিকরা কোনও আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন না। বাড়িওয়ালাদের উপর করের চাপ বাড়ছে বলেও অভিযোগ।
সব মিলিয়ে, নিজেদের দাবি ও ক্ষোভ প্রকাশ করতেই এইবার ভোটে ‘নোটা’-কে হাতিয়ার করতে চাইছেন বাড়িওয়ালারা। তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, এই প্রতিবাদী পথই এখন একমাত্র উপায়।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত