বস্তারে পালিত ‘আমা যোগানি’ উৎসব
কোন্ডাগাঁও, ১৭ এপ্রিল (হি.স.): চৈত্র মাস জুড়ে ছত্তিশগড়ের বস্তার অঞ্চলে পালিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ‘আমা যোগানি’ দেবপূজা। কোন্ডাগাঁও-সহ গোটা বস্তার জুড়েই এই উৎসব ঘিরে দেখা যাচ্ছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। জনজাতি সংস্কৃতি ও প্রাচীন ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই উ
বস্তারে ‘আমা যোগানি’ উৎসব, পূজার আগে আম নিষিদ্ধ


কোন্ডাগাঁও, ১৭ এপ্রিল (হি.স.): চৈত্র মাস জুড়ে ছত্তিশগড়ের বস্তার অঞ্চলে পালিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ‘আমা যোগানি’ দেবপূজা। কোন্ডাগাঁও-সহ গোটা বস্তার জুড়েই এই উৎসব ঘিরে দেখা যাচ্ছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। জনজাতি সংস্কৃতি ও প্রাচীন ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই উৎসব, যা প্রকৃতি, পূর্বপুরুষ এবং গ্রামের দেবতাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানোর প্রতীক।

এই উৎসব মূলত নতুন আমের ফলনকে কেন্দ্র করে পালিত হয়। স্থানীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ‘আমা যোগানি’ দেবপূজা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত নতুন আম খাওয়া কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এখানে।

গ্রামবাসীদের কথায়, এই আচার শুরু হয় ‘বুড়া দেব কোট’ থেকে। সেখান থেকে দেবদেবীর গাথা বা প্রতীক নিয়ে শোভাযাত্রা করে ‘ডোবরা’ (পুকুর)-এ যাওয়া হয়। সেখানে ‘আঙ্গা দেব’-কে সাক্ষী রেখে প্রথা মেনে পূজা-অর্চনা করা হয়। পূজায় বিভিন্ন সামগ্রী নিবেদন করা হয়। এরপর ‘বুড়া দেব’ ও ‘আঙ্গা দেব’-এর পবিত্র স্নান হয়, যা শুদ্ধি ও নতুন জীবনের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।

উৎসবের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তির জন্য বিশেষ আচার। ‘ডুমনি’ নামের পাত্রে করে ডোবরা থেকে জল আনা হয় এবং প্রতীকীভাবে পূর্বপুরুষদের নতুন মাটির হাঁড়িতে আবাহন করা হয়। পরে সেই হাঁড়ি শোভাযাত্রার মাধ্যমে ‘দেব কোট’ পেরিয়ে ‘আঙ্গা দেব’ ও ‘গুটাল দেব’-এর কাছে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে নিয়ম মেনে তাঁদের পূজা সম্পন্ন হয়। এই প্রথা পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা ও তাঁদের আশীর্বাদ প্রার্থনারই প্রতীক।

সব আচার-অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরই নতুন আম পাড়া ও খাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং সামাজিক সম্প্রীতির বার্তাই বহন করে এই প্রাচীন উৎসব।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সুনন্দা দাস




 

 rajesh pande