
কলকাতা, ১৭ এপ্রিল ( হি. স.) : তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনসভায় শামিল হতে শুক্রবার রায়দিঘির মানুষ প্রায় চার ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। সাধারণ মানুষের এই ভিড় এবং উৎসাহ দেখে দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে পুনরায় বিরোধীদের রাজনৈতিকভাবে পরাস্ত করার আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, রায়দিঘির মানুষ যেভাবে তৃণমূল কংগ্রেসকে দু’হাত ভরে সমর্থন দিয়েছেন, তার প্রতিদান হিসেবে মথুরাপুরকে শীঘ্রই মহকুমা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে।
ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ হিসেবে দক্ষিণ ২৪ পরগনায় নিজের শুরু করা উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরে অভিষেক জানান যে, এখানে যে উন্নয়নের জোয়ার এসেছে তা শুধু রাজ্য নয়, বরং গোটা দেশের কাছে মডেল হয়ে দাঁড়িয়েছে। জনপ্রতিনিধি হিসেবে নিজের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আশ্বাস দেন যে, রাজ্যে কোনো নতুন পরিষেবা চালু হলে দক্ষিণ ২৪ পরগনা তা সবার আগে পাবে। এদিন বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি অভিযোগ করেন, বাংলা ও বাঙালি বিরোধীরা নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে রাজ্যের ভোট প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।
রায়দিঘির সভা থেকে বিজেপির ওপর তীক্ষ্ণ আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, মথুরাপুর-রায়দিঘিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রস্তাবিত সভার আগেই সাধারণ মানুষকে সত্য দেখাতে হবে। তাঁর দাবি, বিজেপি এখন বাঙালির খাদ্যাভ্যাস নিয়েও রাজনীতি শুরু করেছে। কটাক্ষ করে তিনি বলেন, বিজেপিকে এখন হাতে রুই, কাতলা ও ইলিশ মাছ নিয়ে প্রচার করতে হচ্ছে। তিনি মনে করিয়ে দেন যে, বহিরাগতরা নয়, বরং বাঙালিরাই শেষ সিদ্ধান্ত নেবে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মঞ্চ থেকে ঘোষণা করেন যে, মথুরাপুরকে পৃথক মহকুমা করা হবে। তিনি জানান, এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তাঁর যুক্তি, যদি কাকদ্বীপ, ডায়মন্ড হারবার এবং আলিপুর মহকুমা হতে পারে, তবে মথুরাপুর কেন নয়। মথুরাপুর মহকুমা হলে সেখানে নিজস্ব আদালত ও মহকুমা শাসকের দফতর স্থাপিত হবে, যার ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা অনেক বেশি প্রশাসনিক সুবিধা পাবেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি