
শিলিগুড়ি, ১৭ এপ্রিল ( হি. স. ) : নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েই বড়সড় ঘোষণা করলেন গৌতম দেব। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, নির্বাচনে জয়ী হলে শিলিগুড়িকে পৃথক জেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তাঁর লক্ষ্য কেবল প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং শহরকে আধুনিক ও বিশ্বমানের রূপ দেওয়া। নিজের নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশ করে তিনি জানিয়েছেন যে, শিলিগুড়ির সামগ্রিক বিকাশের ওপর তাঁর বিশেষ নজর থাকবে। রাস্তাঘাট, জলনিকাশি ব্যবস্থা, বাজার ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য তিনি একগুচ্ছ পরিকল্পনার কথা শুনিয়েছেন। পাশাপাশি পুরনিগমের ওয়ার্ডের সংখ্যা ও সীমানা বৃদ্ধির প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিলিগুড়িকে পৃথক জেলা করার দাবিটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং দীর্ঘদিনের। বর্তমানে বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজের জন্য বাসিন্দাদের কখনও দার্জিলিং আবার কখনও জলপাইগুড়ি ছুটতে হয়, যা সাধারণ মানুষের জন্য বেশ ভোগান্তির। এই সমস্যা চিরতরে মেটাতেই তিনি এমন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, রাজ্যে নতুন সাতটি জেলা গঠনের যে প্রস্তাব ইতিমধ্যেই রয়েছে, তাতে শিলিগুড়িকেও অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সবুজ সংকেত মিলেছে বলে জানানো হয়েছে।
শহরবাসীর জন্য অন্যান্য বড় ঘোষণাগুলোর মধ্যে রয়েছে পানীয় জলের সমস্যার সমাধান এবং সরকারি জমিতে বসবাসকারীদের পাট্টা প্রদান। এছাড়া কাওয়াখালিতে সমস্ত সরকারি দফতরকে এক জায়গায় এনে একটি ‘অফিস পাড়া’ তৈরি করা, ডাম্পিং গ্রাউন্ডের সবুজায়ন এবং বিধান মার্কেটের আমূল সংস্কারের পরিকল্পনাও তাঁর ইস্তেহারে স্থান পেয়েছে। খেলাধুলা ও স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও বড় চমক দিয়েছেন গৌতম দেব। তিনি জানিয়েছেন যে, আন্তর্জাতিক মানের একটি ক্রিকেট স্টেডিয়াম এবং ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট একটি ক্যানসার হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে।
শহরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রধান সমস্যা যানজট থেকে মুক্তির জন্য একটি বিশেষ ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করার দাবিও করেছেন তিনি। গৌতম দেবের কথায়, যদি তিনি বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হন তবে এই সমস্ত প্রকল্প বাস্তবায়িত করবেন এবং শিলিগুড়িকে পৃথক জেলা করার জন্য রাজ্য সরকারের কাছে জোরালো দাবি জানাবেন। এই শহর যেন ভবিষ্যতে উত্তরবঙ্গের গর্বের কারণ হয়ে ওঠে, সেটিই তাঁর একমাত্র স্বপ্ন বলে তিনি জানিয়েছেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি