


কলকাতা, ১৮ এপ্রিল (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক পারদ। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে সেই উত্তাপকে সঙ্গী করেই কলকাতা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত হলো জাতীয় কংগ্রেসের এক সংবাদ সম্মেলন। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার।
শনিবার মঞ্চে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা প্রেস ক্লাবের সভাপতি স্নেহাশিস সুর। এদিন অনুষ্ঠানের শুরুতে সভাপতি শুভঙ্কর সরকারকে পুষ্পস্তবক দিয়ে স্বাগত জানান প্রেস ক্লাবের সহ-সম্পাদক নিতাই মালাকার। বক্তব্যের শুরুতেই নিজের ভাঙা গলার প্রসঙ্গ টেনে শুভঙ্কর বাবু রসিকতার ছলে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বর্তমান 'ভেঙে পড়া' পরিস্থিতির সঙ্গে তার তুলনা করেন। তাঁর এই শ্লেষাত্মক মন্তব্যে রাজনৈতিক কটাক্ষ ছিল সুস্পষ্ট।
এরপর তিনি দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো গঠনে কংগ্রেসের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দেন। বিশেষ করে জহরলাল নেহেরুর অবদান উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর ভারতের গণতন্ত্রকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে কংগ্রেসই অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিল।
এসআইআর প্রসঙ্গে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো ভোট এবং সেই প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। যদি মানুষ সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হন, তবে তা গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত। তাঁর অভিযোগ, এসআইআর আসলে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করার একটি কৌশল।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, এই ভোট হওয়া উচিত উন্নয়নের তুলনামূলক বিচারের ওপর ভিত্তি করে। জনগণ যেন নিজেরাই বিচার করেন—কংগ্রেস আমলে কী উন্নয়ন হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে তৃণমূল ও বাম আমলে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একইসঙ্গে নতুন প্রজন্মের ভোটারদের সচেতন হয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নিজের প্রার্থিতা প্রসঙ্গে তিনি জানান, তিনি শ্রীরামপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ওই এলাকার মানুষের সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, হিন্দমোটর কারখানা ও একাধিক জুটমিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বহু মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছেন—এমন অভিযোগ তাঁর কাছে এসেছে।
মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করলেও রাহুল গান্ধী ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে কথোপকথনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এড়িয়ে যান তিনি।
কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে কী কী পরিকল্পনা রয়েছে, সে প্রসঙ্গে তিনি জানান, সরকার গঠিত হলে রাজ্যে দুটি স্পোর্টস বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা হবে। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে সাধারণ মানুষের জন্য পরিষেবা আরও স্বচ্ছ ও সহজলভ্য করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে তিনি আশাপ্রকাশ করে বলেন, আগামী ৪ মে-র পর পশ্চিমবঙ্গে বড়সড় রাজনৈতিক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। কংগ্রেসের মূল লক্ষ্য তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে সরানো এবং বিজেপিকে রুখে দেওয়া—এই বার্তাই তিনি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সুনন্দা দাস