টিটিএএডিসি নির্বাচনের পর ত্রিপুরায় উত্তেজনা, হামলা ও অগ্নিসংযোগ, গৃহহীন বহু বিজেপি কর্মী
খোয়াই (ত্রিপুরা), ১৮ এপ্রিল (হি.স.) : ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি) নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় চাপা উত্তেজনা ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার জেরে শত শত বিজেপি কর্মী গৃ
হিংসা কবলিত এলাকায় মন্ত্রী টিংকু


খোয়াই (ত্রিপুরা), ১৮ এপ্রিল (হি.স.) : ত্রিপুরা ট্রাইবাল এরিয়াস অটোনমাস ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল (টিটিএএডিসি) নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় চাপা উত্তেজনা ক্রমেই তীব্র আকার ধারণ করছে। নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার জেরে শত শত বিজেপি কর্মী গৃহহীন হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিজেপি সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের সময় সংগঠনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা বহু কর্মী নিরাপত্তার কারণে নিজেদের এলাকা ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন। বর্তমানে তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আগরতলার শহিদ ভগৎ সিং যুব আবাসে অবস্থান করছেন।

দলীয় নেতাদের অভিযোগ, শুক্রবার বিকেল থেকেই বিভিন্ন এলাকায় বিজেপি কর্মীদের লক্ষ্য করে হুমকি ও ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা শুরু হয়। সূর্যাস্তের পর সেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়—অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর এবং শারীরিক হামলার মতো একাধিক ঘটনা ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে। এই হামলার পেছনে তিপ্রা মথা পার্টির সমর্থকদের ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিজেপি, যদিও এ বিষয়ে তিপ্রা মথার পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

বিজেপি ত্রিপুরা প্রদেশ সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা জানান, “দিনের বেলায় শুরু হওয়া ভীতি প্রদর্শন সন্ধ্যার মধ্যে হিংসায় পরিণত হয়। বহু কর্মী নিজেদের এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন, আবার অনেকে ভয়ে বাড়ি ফিরতেও পারছেন না।”

শনিবার বিপিন দেববর্মা এবং সমাজকল্যাণ ও সমাজ শিক্ষা মন্ত্রী টিংকু রায়কে নিয়ে বিজেপি-র একটি প্রতিনিধিদল খোয়াই জেলার হিংসাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। তাঁরা বিভিন্ন কমিউনিটি হলে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।

বিজেপি নেতাদের দাবি, একাধিক বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে, দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়েছে এবং জীবিকার উৎস ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি মাছের পুকুরে বিষ প্রয়োগ এবং পরিণত রাবার বাগান নষ্ট করার অভিযোগও উঠেছে।

মন্ত্রী টিংকু রায় জানান, “যাঁরা আশ্রয় নিয়েছেন, তাঁরা দলের বিভিন্ন সাংগঠনিক দায়িত্বে ছিলেন—পৃষ্ঠা প্রমুখ, বুথ সভাপতি এবং পোলিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন। রামচন্দ্রঘাট, আশারামবাড়ি ও কৃষ্ণপুর এলাকায় হিংসার তীব্রতা বেশি। অনেক পরিবার এখনও বাড়ি ফিরতে পারেনি। তাঁদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।”

বিপিন দেববর্মা আরও দাবি করেন, খোয়াই, মাদাই, সিমনা ও টাকারজালা এলাকায় হিংসার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে। তাঁর কথায়, “শুধু টাকারজালাতেই ২০টিরও বেশি বাড়িতে আগুন লাগানো হয়েছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট করে।”

এদিকে, বিভিন্ন এলাকায় বিজয় মিছিল চলতে থাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়ানোর আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তিনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও জানান বিজেপি নেতৃত্ব।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একাধিক ঘটনায় ইতোমধ্যেই মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, প্রায় প্রতিটি মণ্ডল থেকেই অভিযোগ এসেছে এবং ২৩ থেকে ২৪টি এফআইআর দায়ের হয়েছে। একটি ঘটনায় জনৈকা বয়স্কা মহিলাকে গুরুতরভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

অন্যদিকে, পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী জিরানিয়া এলাকায় বিজেপি প্রার্থী অভিজিৎ দেববর্মার বাসভবনে যান, যেখানে শুক্রবার গভীর রাতে হামলার অভিযোগ ওঠে। তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে আশ্বাস দেন যে প্রশাসনের সহায়তায় এলাকায় শান্তি ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি দ্রুত ফিরিয়ে আনা হবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande