
কলকাতা, ১৮ এপ্রিল ( হি. স.) : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে এক বিশাল জনসভা থেকে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় নেতা শওকত মোল্লাকে বিজেপি নিশানা করছে বলে অভিযোগ তুলে এদিন রীতিমতো হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ভাঙড়ের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি অভিযোগ করেন, বিজেপি রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করছে এবং তাঁদের স্থানীয় নেতাদের টার্গেট করা হচ্ছে। শওকত মোল্লার নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বিজেপি শওকতকে খতম করতে চাইছে এবং তাঁর নিরাপত্তা সরিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে।” কড়া ভাষায় সতর্ক করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শওকতের যদি কোনও ক্ষতি হয়, তবে তিনি কাউকে ছেড়ে কথা বলবেন না। সংগঠনে শওকতের ভূমিকার গুরুত্ব বুঝিয়ে তিনি আরও বলেন, “যদি প্রয়োজন হয়, তবে আমার নিরাপত্তা সরিয়ে নিয়ে শওকতকে দেওয়া হোক। আমি এসবে ভয় পাই না। আমি ধমকি, বোমা বা বন্দুককে ভয় পাওয়ার লোক নই।”
এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মমতা। তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ দিয়ে মানুষের পেট ভরবে না, রেশনও মিলবে না। মোদীর প্রতিশ্রুতিকে ‘মিথ্যা’ বলে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, দিল্লিতে বিরোধী জোট ইতিমধ্যেই বিজেপিকে ধাক্কা দিয়েছে এবং বাংলা থেকেও এবার তারা রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন হবে।
মহিলা সংরক্ষণ ও সীমানা পুনর্নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন) ইস্যু নিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, এই দুই বিষয়কে এক করে দিয়ে রাজ্যগুলির সংসদীয় কাঠামো বদলের চেষ্টা করছে কেন্দ্র। এর ফলে বাংলার মতো অনেক রাজ্যের স্বার্থ বিঘ্নিত হতে পারত বলে তিনি দাবি করেন। মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, তৃণমূল এবং বাংলা সবসময়ই মহিলাদের সম্মান ও প্রতিনিধিত্ব প্রদানে এগিয়ে থেকেছে।
ভাঙড়ের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এই অঞ্চলে বড় মাপের শিল্পায়ন হয়েছে। লেদার হাব বা চর্মশিল্প কেন্দ্রের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও যুবকদের জন্য প্রচুর কাজের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি হাসপাতাল নির্মাণ ও ভূমি মাফিয়াদের হাত থেকে গরিবের জমি রক্ষা করার জন্যও তাঁর সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানান। স্থানীয় ভোটারদের কাছে তৃণমূল প্রার্থীদের জয়ী করার আবেদন জানিয়ে তিনি বলেন, বিজেপি সমর্থিত শক্তি ও বিশ্বাসঘাতকদের পরাজিত করা এখন সময়ের দাবি। প্রস, শনিবার উলুবেড়িয়া ও বারুইপুরে সভা সেরে সন্ধ্যায় ভাঙড়ে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি