রাজ্যের বেহাল দশা ও শিল্পহীনতা নিয়ে প্রেস ক্লাবে সরব শমীক ভট্টাচার্য
কলকাতা, ১৮ এপ্রিল (হি. স.) : পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে শনিবার কলকাতা প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনের মূল বক্তা ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) রাজ্য মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য। অনুষ্ঠানে
কলকাতা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত মিট দ্য প্রেস


কলকাতা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত মিট দ্য প্রেস


কলকাতা প্রেস ক্লাবে আয়োজিত মিট দ্য প্রেস


কলকাতা, ১৮ এপ্রিল (হি. স.) : পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে শনিবার কলকাতা প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনের মূল বক্তা ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) রাজ্য মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য। অনুষ্ঠানের শুরুতে তাঁর হাতে পুষ্পস্তবক তুলে দিয়ে স্বাগত জানান প্রেস ক্লাবের সহ-সম্পাদক নিতাই মালাকার।

এদিন নিজের সুদীর্ঘ বক্তব্যে শমীক ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন যে, সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা ও বিচার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। তিনি বলেন, সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রামের ঘটনার পর থেকে কোনো বড় শিল্পপতি এই রাজ্যে মূলধন বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না, যার ফলে বৃহৎ শিল্পের খরা চলছে। ঝাড়গ্রাম থেকে রানাঘাট—রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা খনিজ সম্পদকে কাজে লাগিয়ে শিল্প গড়ার সম্ভাবনা থাকলেও সরকারের ঔদাসীন্যে তা সম্ভব হচ্ছে না।

রাজ্যের অর্থনৈতিক সংকট তুলে ধরে তিনি জানান, কয়েক বছর আগে রাজ্যের ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লক্ষ ৯২ হাজার কোটি টাকা, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭ লক্ষ কোটি টাকায়। এছাড়া, প্রায় ৬৩০০-এর বেশি বহুজাতিক সংস্থার প্রধান কার্যালয় এ রাজ্য থেকে স্থানান্তরিত হয়েছে। কর্মসংস্থান ও উন্নত শিক্ষার অভাবে রাজ্যের তরুণ প্রজন্ম ভিনরাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে। ফলে কলকাতা তথা সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ ক্রমশ এক 'বৃদ্ধাশ্রমে' পরিণত হচ্ছে।

কৃষি ব্যবস্থার অবনতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একসময় ধান উৎপাদনে শীর্ষস্থানে থাকা বর্ধমান তথা পশ্চিমবঙ্গের কৃষকরা আজ চরম সংকটে। জেলায় জেলায় কৃষক মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে এবং আলু চাষিরাও দিশেহারা। পাশাপাশি, ময়দানে গ্রুপ-ডি কর্মীদের দীর্ঘকালীন ধরনা ও তাঁদের প্রাপ্য আদায়ের লড়াইয়ের প্রসঙ্গটিও তিনি উল্লেখ করেন। সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে সাংবাদিকদের ওপর হওয়া বিভিন্ন অবিচারের বিরুদ্ধে সরব হয়ে তাঁদের পাশে থাকার এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে শমীক ভট্টাচার্য তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / সৃজিতা বসাক




 

 rajesh pande