
কলকাতা, ১৮ এপ্রিল (হি. স.) : মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙা হিংসা মামলায় শনিবার বিশেষ আদালত ৩৫ জন অভিযুক্তের মধ্যে ১৫ জনকে 'বৈধানিক জামিন' প্রদান করেছে। গ্রেফতারির পর নির্দিষ্ট ৯০ দিনের মধ্যে তদন্তকারী সংস্থা চার্জশিট দাখিল করতে না পারায় এই আইনি সুবিধা পেয়েছেন অভিযুক্তরা। তবে জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে আদালত তাঁদের ওপর বেশ কিছু শর্ত আরোপ করেছে।
উল্লেখ্য, বছরের শুরুতে প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডে বেলডাঙার বাসিন্দা এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়। ওই শ্রমিকের দেহ বেলডাঙায় পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে ওঠে। স্থানীয় বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ ছিল, ধর্মীয় ও ভাষাগত কারণে ওই শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
এই ঘটনার প্রতিবাদে এলাকায় রেল ও সড়ক অবরোধ শুরু হয়। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী সেই অবরোধ সরাতে গেলে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ বাঁধে। সেই সময় খবর সংগ্রহ করতে যাওয়া বেশ কয়েকজন সাংবাদিকও আক্রান্ত এবং আহত হন। যদিও পরবর্তীকালে ঝাড়খণ্ড পুলিশ ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে জানায় যে, ওই শ্রমিকের মৃত্যু আদতে আত্মহত্যার ঘটনা ছিল।
ঘটনার সময় এলাকার সাংসদ ইউসুফ পাঠানের অনুপস্থিতি নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছিল বিরোধী পক্ষ। বলা হয়েছিল যে, উত্তপ্ত পরিস্থিতির সময় তিনি এলাকা বা রাজ্য—কোথাও উপস্থিত ছিলেন না। এরপর বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং এনআইএ তদন্তের দাবি জানান।
মামলাটি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ালে আদালত জানায়, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক প্রয়োজনীয় মনে করলে এনআইএ তদন্ত হতে পারে। এরপরই এনআইএ এই মামলার তদন্তভার হাতে নেয়। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চার্জশিট দিতে না পারায় আপাতত ১৫ জন অভিযুক্তের জেল থেকে বেরোনোর পথ প্রশস্ত হলো।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি