
সাব্রুম (ত্রিপুরা), ১৮ এপ্রিল (হি.স.) : দক্ষিণ ত্রিপুরার সাব্রুম মহকুমায় আড়াই বছরের শিশুর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে রতনমনি টিটিএএডিসি ভিলেজের মতু মগ পাড়ায়। মৃত শিশুটির নাম জিষাণ ত্রিপুরা। অভিযোগ উঠেছে, তার সৎ বাবা কেতু ত্রিপুরা (২৬) মারধর করে তাকে হত্যা করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে জিষাণের মা অতিরং গ্রাইভিং (২০) কেতু ত্রিপুরার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এরপর থেকেই তিনি স্বামী ও পূর্বের সন্তানের সঙ্গে একই বাড়িতে বসবাস করছিলেন। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই কেতু প্রায়শই স্ত্রী ও শিশুটির ওপর শারীরিক নির্যাতন চালাতেন।
ঘটনার দিন দুপুরে জিষাণের মা বাড়িতে ছিলেন না। সেই সময় শিশুটি সৎ বাবার সঙ্গেই ছিল। পরে তিনি বাড়ি ফিরে এসে দেখেন, জিষাণ গুরুতর আহত অবস্থায় মাটিতে পড়ে রয়েছে। তড়িঘড়ি তাকে উদ্ধার করার চেষ্টা করা হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই তার মৃত্যু হয়।
পরিবারের দাবি, শিশুটিকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে এবং তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। ঘটনাটি জানাজানি হতেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবি তোলেন।
খবর পেয়ে সাব্রুম থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত কেতু ত্রিপুরাকে আটক করে। পাশাপাশি ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদঘাটনে ফরেনসিক দলকে ডাকা হয় এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।
এলাকাবাসী ও মৃতের পরিবারের সদস্যরা এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ