
শিমলা, ২২ এপ্রিল (হি.স.): মাদক পাচারের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে শিমলা পুলিশ। ২০২৬ সালের প্রথম সাড়ে তিন মাসে ২৭ জন বড় মাদক পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে শিমলা পুলিশ, যা আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি।
বুধবার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ’ পদ্ধতিতে তদন্ত চালিয়ে এই সাফল্য এসেছে। ধৃত এক অভিযুক্তের সূত্র ধরে গোটা নেটওয়ার্কের মূল চক্রের হোতাদের কাছে পৌঁছনো হচ্ছে। যেখানে ২০২৪ সালে একই সময়ে মাত্র ৪ জন এবং ২০২৫ সালে ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল, সেখানে চলতি বছরে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭-এ।
এবারের অভিযানে নেটওয়ার্ক ভাঙার ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য মিলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ১৯টি বড় নেশা সরবরাহ চক্র ভেঙে দেওয়া হয়েছে, যেগুলি হিমাচল প্রদেশে নেশা পাচারের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এই নেটওয়ার্কগুলির সংযোগ ছিল নেপাল ছাড়াও পঞ্জাব, হরিয়ানা, চণ্ডীগড়, কেরলম এবং উত্তর প্রদেশের সঙ্গে। তুলনায়, ২০২৫ সালে মাত্র ৪টি এবং ২০২৪ সালে মাত্র ১টি নেটওয়ার্কে অভিযান চালানো হয়েছিল।
তদন্তে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। একটি মামলায় প্রায় ১ কোটি টাকার এলএসডি উদ্ধার করা হয়েছে এবং এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ৪ জন পুলিশকর্মীও রয়েছে। অন্যদিকে, আম্বালা-ভিত্তিক ‘হিরোইন’ পাচার চক্র ভেঙে ২৮৮ গ্রাম মাদক উদ্ধার করা হয়েছে, যা স্থানীয় যুবকদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
এছাড়া নেপাল থেকে আনা প্রায় ১১.৫ কেজি আফিমের বড় চালান আটক করা হয়েছে। এই ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং প্রায় ১২ লক্ষ টাকা নগদ উদ্ধার হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক শাহী মহাত্মা গ্যাংয়ের মূল অভিযুক্তকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি, লুকাস ও ডেভিড নামে দুই অভিযুক্তকে পঞ্জাব ও হরিয়ানা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও একটি মামলায় ৮৩ গ্রাম ‘হিরোইন’ পাচারের অভিযোগে ৮ জনকে ধরা হয়েছে।
বুধবার শিমলার এসএসপি গৌরব সিং জানিয়েছেন, এই ধরনের অভিযানের ফলে নেশা সরবরাহ চক্রে বড় ধাক্কা লেগেছে এবং নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়েছে। এর ফলে বহু যুবকের কাছে মাদক পৌঁছনো রোধ করা সম্ভব হয়েছে। তাঁর মতে, এই কৌশল ভবিষ্যতেও নেশা-সংক্রান্ত অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সৃজিতা বসাক