
কলকাতা, ২২ এপ্রিল (হি.স.) : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে ফের সক্রিয় হয়ে উঠল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভার দুই সদস্য তথা তৃণমূল প্রার্থী সুজিত বসু এবং রথীন ঘোষকে নতুন করে সমন পাঠাল ইডি। সূত্রের খবর, পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আগামী ২৪ এপ্রিল তাঁদের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, আগামী ২৯ এপ্রিল রাজ্যের দ্বিতীয় দফার নির্বাচন। এই দফায় সুজিত বসু বিধাননগর এবং রথীন ঘোষ মধ্যমগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনের প্রচার যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়েই এই জোড়া সমন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রথম নয়, এর আগেও একাধিকবার এই দুই নেতাকে তলব করা হয়েছে এবং তাঁরা কেন্দ্রীয় এজেন্সির সামনে উপস্থিত হয়েছেন। এর আগে একবার সুজিত বসুর পরিবর্তে তাঁর ছেলে প্রয়োজনীয় নথিপত্র নিয়ে ইডি দফতরে গিয়েছিলেন। কেবলমাত্র সুজিত বসু বা রথীন ঘোষই নন, তৃণমূলের আর এক প্রার্থী দেবাশিস কুমারকেও নির্বাচনী মরসুমের মধ্যে বারবার সমন পাঠানো হয়েছে। এমনকি তাঁর বাড়িতে আয়কর হানা পর্যন্ত হয়েছে।
নির্বাচনের মুখে এই ঘনঘন সমন ও তলব নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, বিরোধীদের প্রচারে বাধা দিতে এবং প্রার্থীদের মাঠ থেকে সরিয়ে রাখতেই কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলিকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি একে ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখছেন। যদিও কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলির পক্ষ থেকে এই রাজনৈতিক অভিযোগ নিয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। প্রথম দফার ভোটের ঠিক আগেই এই তলব নির্বাচনী আবহে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিল।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি